চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জিনবোধি ভিক্ষু ২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে চিন সফরে যান। সে সময় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং-এর সাথে সেীজন্য সাক্ষাৎ-এর সময় পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে "আর্ন্তজাতিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠা ও প্রত্নতত্ত্ব খননের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়।
১৬ সেপ্টেম্বর চট্রগ্রাম বড়উঠান দেয়াং পাহাড়ে প্রত্নতত্ত্ব খনন কাজ শুরু হয়। এটি চট্টগ্রামে প্রথম খনন কাজ বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিলেট বিভাগের প্রত্নতাত্ত্বিক আঞ্চলিক অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান। অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু বাংলাদেশ ভারত সংস্কৃতি বিনিময় আইসিসিআর স্কলারশীপ নিয়ে গবেষণার জন্য ভারতে অধ্যায়ন করতে গেলে পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বাংলা একাডেমির মাধ্যমে গবেষণা পত্র প্রকাশ করে সর্বপ্রথম সবার নজরে আনেন।
খিস্ট্রীয় সপ্তম অষ্টম শতাব্দীতে পূর্ববঙ্গের তথা বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামের আনোয়ারা বড়উঠান দেয়াং পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিকদের ধারণা।
পণ্ডিত বিহারের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন মত প্রচলিত থাকলেও গবেষণায় উঠে এসেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ঝিওরি, হাজীগাঁও, বটতলী, কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ও জুলধা এলাকাজুড়ে সপ্তম-অষ্টম শতকে পণ্ডিত বিহার নামে একটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র গড়ে ওঠে।
১৯২৭ সালে আনোয়ারার হাজীগাঁও ঝিউরি নামক এলাকায় আলী বলীর বাড়ি থেকে ৬৬টি পিতলের বৌদ্ধমূর্তি পাওয়া গেলে ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণ নিশ্চিত করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। ইতিহাস থেকে জানা যায়, পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেন পটিয়ার চক্রশালার ব্রাহ্মণ সন্তান তিলপাদ। তার হিন্দু জীবনের যোগ সাধনসঙ্গিনী তিল পিষে জীবনধারণ করতেন বলে তিনি তিলপাদ নাম গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর প্রজ্ঞাভদ্র নাম গ্রহণ করেন ও পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন।
খনন কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত কোনো শিলালিপি,মাটির তৈজসপত্র,মূর্তি পাওয়া না গেলেও পাহাড়পুর,সোমপুর বৌদ্ধ বিহারের মতোই অন্যান্য বৌদ্ধ পুরাকীর্তির সাথে মিল রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টসের আরেক অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন,দেখতে সোমপুর,পাহাড়পুর,ময়নামতি শালবন বিহারের মতোই ইটের দৈর্ঘ্য প্রস্ত সমান এবং গঠনশৈলী একরকম।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মনসুর আলী বলেন,পণ্ডিত বিহারকে কেন্দ্র করে প্রত্নতত্ত্ব খননের মধ্য দিয়ে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা আনোয়ারা তথা সমগ্র চট্টগ্রাম বাসীদের গৌরবান্বিত করেছে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমি নিজে অনেক খুশি। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের আবাসিক ভিক্ষু জে বি এস আনন্দবোধি ভিক্ষু বলেন,শুরু থেকে পণ্ডিত বিহার পুনরুদ্ধার খনন কার্যে সম্পৃক্ত ড. জিনবোধি ভিক্ষু মহোদয়'র একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা স্থানীয়দের কাছে বিভিন্ন সময় শুনেছি আনোয়ারার দেয়াং পাহাড়ে মাটি খুঁড়লে বড় বড় ইট, পুরোনো জিনিস বেরিয়ে আসে ফলশ্রুতিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর খনন কাজ শুরু হয়।আমরা দেখি এই পর্যন্ত আবিস্কৃত অন্যান্য বৌদ্ধ পুরাকীর্তির এর সাযুজ্য রয়েছে যেটা এতদঞ্চলের জন্য বিরাট সৌভাগ্য।
বড়উঠান দেয়াং পাহাড় কোট্টা পাড়ার নিবাসী সিরাজুল হক (৫০) বলেন,এখানে মাটি খুঁড়লে ইট বের হয়। ছোটবেলা থেকে আমরা অনেক গল্প শুনেছি। একজন ঠউর (বৌদ্ধ ভিক্ষু) বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে তাই আমাদের খুশি লাগতেছে।
ঢাকা রিপোর্ট ২৪.কম/এসপি/আরএএম