চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজের সাড়ে ১৬ ঘণ্টা পর বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে মাঈন উদ্দিন আরফাত (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল ১৭ মে (বুধবার) ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড জনার কেঁওচিয়া মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদেরের বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাষ্টার বাড়ি পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। আরফাত একই উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আদর্শ গ্রাম এলাকার ওমান প্রবাসী আবদুল মান্নানের ছেলে। সে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিলো।
শিশুটির চাচা মো. ইয়াছিন বলেন, আরফাতের মা শারমিন আক্তার বেশ কয়েকদিন ধরে জন্ডিস রোগে আক্রান্ত। গত শুক্রবার (১২মে) তার নানী গিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে মা’সহ তাদের নানার বাড়ি নিয়ে যায়। গত(১৬ মে) মঙ্গলবার দুপুরে সে মায়ের সাথে শুয়ে পড়ে। মা ঘুমিয়ে পড়লে মাকে ফাঁকি দিয়ে নানার বাড়ির সবার অজান্তে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি আরফাত। পরে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ইয়াছিন আরও বলেন, সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পযন্ত ও জেলেদের দিয়ে পুকুরে জাল ফেলেও তার খোজ পাইনি।
গতকাল (বুধবার) ভোর ৫টার দিকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে উঠে মাষ্টার বাড়ি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় আরফাতের লাশ দেখতে পায়। তিনি আরও বলেন, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবা ওমান থেকে দেশে এসেছেন। বুধবার বিকেলে নামাজের জানাজা শেষে আরফাতকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র ষ্টেশন কর্মকর্তা হুমায়ুুন কার্ণাযয়েন বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল থেকে মাগরিব পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৫/৬ জনের একটি টিম পুকুরে নেমে ও জাল ফেলে শিশুটিকে খুজলেও পাওয়া যায়নি। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় পানি থেকে উঠে আসা হয়। তিনি আরও বলেন, আসলে শিশুটি কি পানিতে ডুবে নিখোঁজ, না কি কোথাও চলে গেছে? তা নিশ্চিত করে শিশুটির স্বজনরা বলতে পারেনি। তবুও গতকাল (বুধবার) ভোরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস থেকে ডুবুরি দল রওয়ানা দিয়েছিল। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা ফেরত যায়।
উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান ওচমান আলী পুকুর থেকে এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএএস/আরএএম