একাধিকবার অভিযান, জরিমানা এবং আইনী নিষেধাজ্ঞার পরেও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতগড় লম্বা শিয়া পাহাড়ের মুখ এলাকায় সংরক্ষিত বন বিভাগের জায়গায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে আইনকে তোয়াক্কা না করে আবারও অবৈধভাবে চলছে বালি উত্তোলন।
১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় কেটে ছড়া থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, কয়েকজন শ্রমিক বালু উত্তোলনে কাজ করছে। শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদের পরেও তারা মালিকের নাম বলতে রাজি হয়নি। ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে আশপাশের এলাকায় ভাঙন ধরেছে, সৃষ্টি হয়েছে গর্ত; বিপন্ন হয়ে পড়েছে সামাজিক পরিবেশ। এতে হুমকির মধ্যে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয়দের সাথে সাক্ষাতকারে তারা বলেন, বালু উত্তোলনকারীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। বন বিভাগের জায়গায় বালু উত্তোলন করায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকায় হাতির দল নিয়মিত বিচরণ করে। কয়েক মাস আগে একটি হাতি এই গর্তে পড়ে মারাও গেছে। কিন্তু বনবিভাগ এখনো নীরব। নিষেধাজ্ঞার পরেও বালু উত্তোলনের মহোৎসব রটাচ্ছে তারা। এটা কি প্রশাসন ম্যানেজ, নাকি নেপথ্যে প্রভাবশালী রাঘব বোয়াল? তাদের খুঁটির জোর কোথায়?
তারা আরও জানান, বেশ কিছুদিন আগে অভিযানে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করা হলেও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে আবারও শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি রেঞ্জ সাতগড় বনবিট কর্মকর্তা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ‘আমি অসুস্থ। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’