বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

চমেকের ৪ শিক্ষার্থীকে ২ ঘণ্টা ধরে ‘ছাত্রলীগের’ নির্যাতন, ২ জন আইসিইউতে


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
DhakaReport24.com || 2023-02-10 14:40:45
চমেকের ৪ শিক্ষার্থীকে ২ ঘণ্টা ধরে ‘ছাত্রলীগের’ নির্যাতন, ২ জন আইসিইউতে

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ৪ শিক্ষার্থীকে ২ ঘণ্টা ধরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। গত বুধবার দিনগত রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত প্রধান ছাত্রবাসের আলাদা আলাদা কক্ষে তাদের নির্যাতন করা হয়। এরমধ্যে দুইজনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন- ৬২তম ব্যাচের এম এ রায়হান, মোবাশ্বির হোসেন শুভ্র, জাহিদ হোসাইন ওয়াকিল এবং সাকিব হোসেন। এরমধ্যে ওয়াকিল ও সাকিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্য দুই শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না দিয়ে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা (এম এ রায়হান) ও নারায়নগঞ্জে (মোবাশ্বির হোসেন শুভ্র) পাঠিয়ে দিয়েছে নির্যাতনকারীরা।

চমেক ছাত্রবাসের ইনচার্জ ডা. মিজানুর রহমান চৌধুরী বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় ছিলাম। দুপুরে শুনেছি আমাদের চারজন ছাত্রকে মেরে ছাত্রবাসে আটকে রাখা হয়েছে। শুরুতে আমি হোস্টেল সুপার ডা. রিজওয়ান রোহানকে খবর নিতে বলি। কিন্তু খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আমি প্রিন্সিপাল ম্যাডামকে বলি। পুলিশসহ গিয়ে তাদের দুই জনকে উদ্ধার করে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।’

অভিযুক্তরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা অভিজিৎ দাশ, রিয়াজুল জয়, জাকির হোসেন সায়াল, মাহিন আহমেদ ও ইব্রাহিম সাকিব। মারামারিতে জড়িয়ে তারা কলেজ থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।

মারধরের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করে ‘শিক্ষার্থীরা বাথ রুমে পড়ে যাওয়ার বিষয়’ বলে জানান চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার। পরে একজন সাংবাদিক চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে নির্যাতনের ছবি তুলেছে জানালে অধ্যক্ষ বিষয়টি স্বীকার করেন। বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে আছি। বিষয়টি দেখছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চমেকের একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অভিজিৎ দাশ, রিয়াজুল জয়, জাকির হোসেন সায়াল, মাহিন আহমেদ ও ইব্রাহিম সাকিবের নেতৃত্বে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। 

তিনি বলেন, ‘রাতেই মিজান স্যারকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনি রাতেই রোহান স্যারকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু হামলাকারীরা ম্যাডামকে কনভিন্স করছে যে তারা কাউকে মারেনি। এরপর দুজনকে ছেড়ে দিয়ে দুজনকে আটকে রাখা হলে সকালে আবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ আরম্ভ করি আমরা। প্রশাসন দিনভর চেষ্টা করে তাদের হদিস পায়নি। বিকালে তাদের উদ্ধার করা হয়।’

ছাত্রাবাসে অবস্থানরত অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, বুধবার দিবাগত রাতে ছাত্রাবাসের বিভিন্ন রুম থেকে তুলে নিয়ে তাদের নির্যাতন করা হয়। হোস্টেল এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে বিষয়টি জেনেও উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা ছাত্রাবাসে নিয়মিত পুলিশের সঙ্গে আরও পুলিশ মোতায়েন করেছি। নির্যাতনকারীদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/হাদি/আরএএম