রাতের আঁধারে বিভিন্ন রকমের ফলজ গাছ কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম লোহাগাড়ার চুনতি ৪নং ওয়ার্ড উয়াইখ্যা ঘোনা প্রান্তে রিয়াজের দখলীয় ফলজ গাছের বাগানে এ অমানবিক ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানে বোল আসা জাম্বুরা, লেবু, লিচু, নানান প্রজাতির প্রায় ৫০০ আমগাছ কর্তন করে দুষ্কৃতিকারীরা। বাগানের কেয়ারটেকার আরিফ জানান, “গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা! মনকে বুঝাতে পারছি না।” গাছ কর্তন করার ফলে বাগানে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানান আরিফ।
বাগান দেখতে এসে কয়েকজন কৃষক ও দিনমজুর বলেন, ফলজ গাছগুলো সৃষ্টি জগতে কারও কোনো ক্ষতি করে না। ন্যাক্কারজনক এ কাজটা যারা করেছে তারা অমানুষ। তাদেরকে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
বাগানের মালিক রিয়াজ জানান, “বিগত ১৮ বছর ধরে প্রায় ৫ একর জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করতে পারিবারিকভাবে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এবং আমার সাথে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই।কেয়ারটেকারের মাধ্যমে জানতে পারি রাতের আঁধারে বাগানের বিভিন্ন ফলজ গাছ কেটে ফেলেছে দুষ্কৃতিকারীরা। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ বিষয়ে সাতগড় বনবিট কর্মকর্তা শাহ্ আলম হাওলাদার বলেন, ফোনে জেনেছি, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া আমরা কোন ধরণের ফলজ গাছ উচ্ছেদ করি না।
উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক হামিদুর রহমান বলেন, ফলজ গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার এ ধরণের গাছগাছালি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে অনেক বড় বড় প্রকল্প পরিচালনা করে আসছে। চুনতিতে যে বনজ গাছ কর্তন করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে দোষীদেরকে অতিসত্বর চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইন-চার্জ আতিকুর রহমান বলেন, গাছ কর্তনের বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।