চট্টগ্রামের টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে জামায়াত নেতা আবুল মনছুর কর্তৃক প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বুধবার কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন, টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আহমদ হোছাইন।
তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, আমি টেরীবাজার এলাকার একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। পাশাপাশি আমি টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে আমরা সালিশ বিচার করে আইনগত সহযোগিতা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। বিবাদী একজন জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা ও টেরীবাজার এলাকার একজন ব্যবসায়ী। তাহার ব্যবসায়িক পার্টনার মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা তার বিরুদ্ধে টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে টাকা পাওনার অভিযোগ প্রদান করিলে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমাকে বিচার কমিটির আহ্বায়ক নির্ধারণ করে বিচার পরিচালনা করার জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। সেই আলোকে আমি বিচারকার্য পরিচালনার জন্য গত ২১ নভেম্বর বিবাদীর বরাবর নোটিশ পাঠালে বিবাদী নোটিশ গ্রহণ করেন নি।
পরবর্তীতে ২৭ নভেম্ভর ২০২২ তারিখে উক্ত অভিযোগের বিচার করার জন্য তারিখ ধার্য করিয়া বিবাদীকে নোটিশ প্রদান করি। উক্ত নোটিশ পেয়ে বিবাদী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ২৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখ রাত আনুমানিক ৭টা ৫৮ মিনিটের সময় কোতোয়ালী থানাধীন টেরীবাজার হাজী রমজু মিয়া ম্যানশনের ৩য় তলায় টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে থাকাবস্থায় বিবাদী আবুল মনছুর তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ১৭১১৭৫০০২০ এর হোয়াটসঅ্যাপ হতে আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৮১৫৫৯৩০৯০ এর হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কোন বিচার মানে না বলিয়া জানায়। বিবাদী আমাকে কোন ধরণের বিচার করার চেষ্টা করিলে তিনি আমাকে দেখে নিবে, রাস্তায় পেলে দেখে নিবে, তোয়ার লই এহন হইতে খেলা শুরু হইয়েছে বলিয়া হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এ সময় আমিসহ টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ফজল আহম্মদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম বাহাদুর, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুল হুদা, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুল কবির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ মামুনুর রশিদ, অডিটর সম্পাদক মোঃ দিদারুল আলম, সাহিত্য ও ধর্মীয় সম্পাদক তাজুল ইসলাম, কার্য-নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ রাশেদ ও কামরুল হাসানগণ সমিতির কার্যালয়ে প্রশাসনিক কাজ করা অবস্থায় ছিলেন।
বিবাদীর সাথে আমার কথোপকথন সকলেই লাউড স্পীকারে শুনতে পায় এবং সে আমাকে কথাগুলো রেকর্ডও করতে বলে। এছাড়াও বিবাদী ২৩ নভেম্বর তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের সময় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ফজল আহমদকে কল করে বিভিন্ন কথা বলে আমাকে অচিরেই প্রাণনাশের হুমকি দেন।
জানা যায়, কিছুদিন আগে মোহাম্মদ আবুল মনছুর গোপন মিটিং হতে জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিলেন। জেল থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম