গত শনিবার (২৬ জুন) সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়ার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের তাতী পাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আধারে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালিয়েছে একটি পক্ষ। হামলায় ১৩ জন আহত হয়েছে। আহতরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন আছেন।
হামলায় আহতরা হলেন-শফিকুর রহমান(৬৬), মাহাবুর রহমান(৫৬),আবদুর রশিদ(৫৭),মো,দেলোয়ার(২২), মো,ফরহাদ(২০), মো,ইকবাল(২২), মো,আকবর(২০), মো,ফোরকান(১৬), আবুল হোসেন(৫০), মো,শাহাবুদ্দিন (৪০), মো,জুনাইদ(২০),মো,ফয়সাল(২২),হারুনুর রশিদ(৪৫), মো,আলম(৩৫)।
পুলিশের সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন সন্ধা আনুমানিক ৬ টার সময় উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মিয়ার পাড়ার হাজী লক্ষীবিবি এবতেদায়ী মাদরাসার সামনে একই এলাকার শমসুল আলমের মেয়ের জামাতা সাইফুল ইসলাম ও চাচাত ভাই আকতার হোসেন একটি মোটর সাইকেল নিয়ে এলাকায় বেড়ানোর সময় পুর্ব শত্রুতার জের ধরে ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কুতুব পাড়া এলাকার মো,দে্লোয়ার হোসেন দেলু (৪৫) গাছের লাঠি,হকিস্টিক নিয়ে মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে।
কোন কারণ ছাড়া মারধর শুরু করে মোটর সাইকেল,নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।এসময় তার চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষ মো,ইকবাল,মো,দেলোয়ার,আবদুল হামিদ, ও ফোরকানকেও মারধর করেন।
অভিযোগটি স্থানীয় ইউপি সদস্য মহি উদ্দীনকে জানানো হলে তিনি ২৭ জুন সকালে বিচার বসার তারিখ ঠিক করে দেন।ইউপি মেম্বারকে বিচার দেওয়ায় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬ জুন রাত আনুমানিক ৯ টায় আসামীরা দলবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের উপর আবার হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ভাংচুর করে।
হামলায় আহত হন সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো,,শাহাবুদ্দিন (৪০),শফিক আহমদ(৭০), মাহবুবুর রহমান(৫৬), মো,ফরহাদ(১৮), সাইফুল ইসলাম। পরে এলাকার লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মামলার বাদি সমশুল আলম জানান, দেলোয়ার হোসেন দেলু,শামীম,তৌহিদ,সুমন,সাইফুল,ফয়সল,জুনাইদ,আমান উল্লাহ,মিজান,মাহিরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছি।
সাতকানিয়া উপজোলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো,শাহাবুদ্দিন বলেন,ব্যাক্তিগত কাজ শেষ করে উপজেলা সদর হতে বাড়ি ফেরার গথে দেখি একদল লোক দেশিয় অস্ত্র নিয়ে তাতীপাড়ার লোক ও বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে।বিষয়টি কি জানতে চাইলে হামলাকারীরা আমার উপর চড়াও হয়ে আমাকে মারধর করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ্ব মহি উদ্দীন মারধর ও ভাংচুরের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি খুবই অমানবিক। যোগাযোগ করা হলে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন বলেন, বিষয়টি শুনেছি নিজে শহরে থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারি নাই।
অপরদিকে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন,আমি নিজে মারামারি করি নাই।তবে মারামারির খবর শুনে ঐ এলাকায় গিয়েছিলাম।তাছাড়া ওই এলাকার এক নেশাগ্রস্ত জামাই গত শুক্রবার আমাদের পাড়ার ছোট ছোট ছেলেদের মারধর করেছিল।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএম/আরএএম