চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একের পর এক মামলা দিয়েও বন দখল থেকে থামানো যাচ্ছেনা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বিটে দীর্ঘদিন ধরে বনের জায়গা দখলের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার উত্তর বনগ্রাম কলাবাইজ্জ্যা ঘোনা এলাকার মো. জাহেদ হোসেন ও তারই ছেলে আবুল কালাম সওদাগরের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, সরকারি বনের জায়গা দখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন তাঁরা। বাড়ির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল ঢাকারিপোর্ট২৪ডটকমে "পাহাড়ের জায়গা দখলের অভিযোগ" শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারি এ সম্পত্তিতে পাকা বাড়ি নির্মাণে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ বাঁধা দেয়।পরে স্থাপনা নির্মাণ কিছুদিন বন্ধ রেখেছিলেন জাহেদ হোসেনের ছেলে আবুল কালাম সওদাগর ও আবুল বশর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের কোদালা বিট কর্মকর্তা পিকে ধর নবীন বলেন,বনবিভাগের জায়গায় বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে আবুল কালাম ও তার ভাই আবুল বশরসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম সওদাগর সরকারি বনভূমির তালিকাভুক্ত দখলকারী। তার বিরুদ্ধে এপর্যন্ত ২৪টিরও বেশি মামলা রয়েছে। যার বেশিরভাগ মামলার প্রধান আসামী আবুল কালাম। তবুও তিনি বন দখল করা থামছেন না।
এছাড়া,আবুল কালাম সওদাগরের পিতা মো. জাহেদ হোসেনের বিরুদ্ধেও ৯০ দশকে বন মামলা করা হয়েছিল।এক্ষেত্রে পিতা-পুত্র সবাই বন মামলার আসামি হলেও থামানো যাচ্ছেনা তাদের।
জানতে চাইলে আবুল কালাম সওদাগর তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে ২৪টির বেশি বন মামলা ছিল, তা আমি জানতাম না। এখন জানলাম। আর বনবিভাগের জায়গায় বাড়ি নির্মাণের প্রসঙ্গে বলেন, রেঞ্জ অফিসারকে আমার বাড়ির কাগজপত্র দিয়েছি। তাদের সাথে ফয়সালা হয়েছে। তাছাড়া আমার কোনো করাতকলও নেই। একবছর আগে নুরু তালেবের যে করাতকলটি ভাড়া নিয়েছিলাম, তা শেষ হয়েছে"।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুম কবীর বলেন, "বনের জায়গায় বাড়ি নির্মাণের সুযোগ নেই। যারা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বনের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন,"বনবিভাগের জায়গা জবরদখল থেকে পুনরুদ্ধার করতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। যাদের বিরুদ্ধে পিওআর মামলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে যাদের পিওআর মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করা হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/সাখা/আরএএম