বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে প্রচুর। বিভিন্ন পত্রিকা, পকেটে নিয়ে ও অনুমোদনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টালের নাম লেখা স্টিকার গাড়িতে লাগিয়ে অবাধে চলাচল করছেন ওইসব সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তি।
নেই কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা পরির্বতন করেই হয়ে যান সাংবাদিক। কোন সংবাদ লিখতে না পারলেও তারা বড় সাংবাদিক, হাতে পত্রিকা ও মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কথিত সাংবাদিকরা। পাহাড় কাটা, গাছ কাটা, অবৈধ বালি উত্তোলন, চোলাই মদ পাচার, বাল্যবিবাহ, মারামারি, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, পরকিয়া ও বিভিন্ন অনিয়মের খোঁজ নিয়ে পৌছে যান সকলের আগে। সেখানে তাদের নানা রকম ভয়ভীতি প্রর্দশন করে আদায় করে থাকে মোটা অংকের টাকা। টাকা দিতে না চাইলে পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়ে থাকেন তারা।
এমন এক ভুয়া সাংবাদিক এইচ, এম আবু জাহাঙ্গীর। তিনি লামা উপজেলার ৪নং আজিজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা। সে নিজেকে আলোকিত চট্টগ্রাম পত্রিকার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রাম জেলার বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জ অফিসের নৌশ প্রহরী মোঃ ফারুকে সংবাদ ছাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, আমি এইচ, এম আবু জাহাঙ্গীর। আমি আলোকিত চট্টগ্রাম পত্রিকার সাংবাদিক, আপনার বিরুদ্ধে চাঁদার অভিযোগ পাওয়া গেছে, আমাকে টাকা দিলে আমি সেই অভিযোগ প্রকাশ করবো না। তখন আমি টাকা দিতে পারব না বললে, সে আমার বিরুদ্ধে প্রধান বন সংরক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়। তখন আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অনুসন্ধান তদন্ত করে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তখন তিনি স্বীকারোক্তিমূলক লিখিতভাবে জানায় যে আমি নির্দোষ।
তদন্ত করে জানা যায়, ভুয়া সাংবাদিক এইচ এম আবু জাহাঙ্গীর আদৌ সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত নয়। সে মূলত কিছু পরিচয়পত্র তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি বা ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে ভুয়া খবর প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। বেশির ভাগ মানুষ তার বিষয়ে ধারণা রাখেন না বলে দাবিকৃত টাকা দিয়ে দেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন পত্রিকার নাম দিয়ে বান্দরবান, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন জায়গাতে এমন প্রতারণা করে আসছিল। চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের জালে আটক হয়েছিল এ ভুয়া সাংবাদিক।
বাংলাদেশের স্বনামধন্য দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় সংবাদ আকারে প্রকাশ হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে দুইটি আইডি কার্ড পোষ্ট করেন তিনি। যার মধ্যে সাপ্তাহিক আলোকিত চট্টগ্রাম পত্রিকার আইডি কার্ডের মেয়াদকাল শেষ হয় ১ বছর ৬ মাস আগে। আইডি কার্ডে থাকা ০১৭১১৯৩২০০৮ এ নাম্বারে ফোন দিলে এইচ এম আবু জাহাঙ্গীর নামে তাদের কোন প্রতিনিধি নেই বলে জানান। যা প্রতিবেদকের কাছে ফোন রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন পেশার লোকজনকে টাকার বিনিময়ে সংবাদ কর্মি বানিয়ে সাংবাদিক সংগঠন তৈরি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নাম দিয়ে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে করছেন চাঁদাবাজি। যেখানে-সেখানে অবাধে বিচরণ করছে এরকম ভুয়া সাংবাদিক। করে যাচ্ছে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এসব নীতিহীন কর্মে বাড়ছে গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অভিযুক্ত ভুয়া সাংবাদিক এইচ, এম আবু জাহাঙ্গীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল আলম বলেন, কোন সাংবাদিক ভুয়া প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ধারায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম