পল্লী বিদ্যুতের তীব্র বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উপজেলার গ্রাহকদের।
তীব্র গরমের সঙ্গে অসহনীয় বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ভেল্কিবাজিতে শিক্ষার্থীরাসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অসহনীয় গরমের রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয় তাদের।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একদিকে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে হুমকির মুখে ব্যবসায়ীরা। বর্ষা আসলে বৃষ্টি আর লোডশেডিং যেনো রুপ নেয় প্রতিশব্দে। হালকা বৃষ্টি নামলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ফটিকছড়িতে বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজি চলছেই।
গ্রাহকরা বলছে, অতিরিক্ত লোডশেডিং, টেকনিক্যাল সমস্যা, হালকা ঝড়ো-হাওয়া হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। জনগুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয়ের সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে জনগণকে।
ফটিকছড়ি পৌরসভার মাসুদ নামে লন্ডন ফেরত এক প্রবাসী বলেন, অনেক বছর পর দেশে আসলাম। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে প্রায়ই গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা। এই সময়টিতে দেশে অনেক উন্নয়ন হলেও বিদ্যুতের যথেষ্ট ঘাটতি রয়ে গেছে। ভূজপুরের মাওলানা সেলিম মাহমুদ নামের এক সমাজকর্মী বলেন, ফটিকছড়ির মতো এক জনবহুল এলাকায় বিদ্যুতের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা প্রয়োজন।
লোডশেডিং এর কথা বলে ফটিকছড়ির ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন চা বাগানেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণের কথিত অজুহাত নেহাৎ কম নয়। চা শিল্প বেঁচে থাকতে বিদ্যুৎ বিতরণ হতেই পারে কিন্তু তা কখনো জনগণকে অন্ধকারে রেখে ও গরমে মেরে নয়। তাছাড়া এই মৌসুমে সমগ্র ফটিকছড়িতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু শ্রমিকের অভাব আর অকাল বৃষ্টির কারণে দিনের বেলা ধান কেঁটে রাতের সময় মাড়াই কলে ধান নিতে চাইলেও বিদ্যুৎ বিভ্রান্তির জন্য তা হয়ে উঠে না।
বাস্তব সমস্যার কথা বিবেচনা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান সাধারণ জনগণ।
ফটিকছড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ সমিতি নামে একটি সংগঠন থাকলেও অসহনীয় গরমেও পল্লীবিদ্যুৎ ভেলকিবাজি নিয়ে তাদের সক্রিয় কোনো ভূমিকা না থাকায় এ সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ অনেক গ্রাহক।
ফটিকছড়ি পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ মুহিউদ্দিন বলেন, এটা লোডশেডিং না লাইনে কিছু সমস্যা ছিল। এগুলো সমাধান হয়েছে, আর বিভিন্ন সময়ে গাছপালা পড়ে তারের লাইনচ্যুত হয়। গ্রাহক না বললে সেটা খুঁজে বের করতে সময় লাগে। যার কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করার জন্য কাজ করছি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম