দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখর চট্টগ্রামের সবকটি বিনোদনকেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (৫ মে) সকাল থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমে জেলার সবকটি বিনোদন কেন্দ্রে। শিশু-কিশোরের পাশাপাশি বয়স্কদেরও দেখা গেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে দল বেধে বিনোদন কেন্দ্রে যেতে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত পতেঙ্গা, চিড়িয়াখানা, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড, পতেঙ্গা প্রজাপতি পার্ক, কর্ণফুলী নদীর অভয় মিত্র ঘাট, কাজির দেউড়ি শিশু পার্ক, বহদ্দারহাট স্বাধীনতা পার্ক, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্ক, আগ্রাবাদ জাতি তাত্ত্বিক জাদুঘর, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও হালিশহর সাগর পাড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লোকে লোকারণ্য। এ ছাড়া নগরের পাশাপাশি জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সাগরপাড়, চন্দ্রনাথ পাহাড়, মীরসরাইয়ে মহামায়া লেক, আনোয়ারায় পারকি সমুদ্র সৈকত, রাউজানে মহামুনি মন্দির, অণিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি শিশু পার্ক, বেতাগি কর্ণফুলী নদীর পাড়, রাউজান রাবার বাগান, ফটিকছড়ি চা বাগানেও ভিড় জমেছে দর্শনার্থীদের।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতেও লোক সমাগম দেখা গেছে। কেউ কেউ সমুদ্রের পানিতে গা ভাসিয়েছেন। আবার কাউকে সাগরের পানির ঢেউয়ের তালে ছন্দ মেলাতে দেখা গেছে। কেউবা সমুদ্রের পাড়ে বসে গান গেয়ে আনন্দ মেতেছেন। সব বয়সী মানুষের সমাগম ঘটেছে পতেঙ্গা সৈকতে।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. ইসরাফলি মজুমদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই সমুদ্র সৈকতে প্রচুর দর্শনার্থী এসেছে। দর্শনার্থীরা যাতে কোনও ধরনের সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।’
ভিড় জমেছে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানায়। যেখানে দুর্লভ সাদা বাঘ থেকে শুরু করে আছে, সিংহ, বানর, হনুমান ও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণসহ অসংখ্য পশুপাখি। এখানে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে এসেছেন বয়স্করাও। চিড়িয়াখানার পশুপাখির পাশাপাশি পাহাড়ের মাঝখানে থাকা সিঁড়ি এবং ছোটদের খেলনাগুলো বেশ উপভোগ্য।
কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের চেয়ে বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি। ঈদকে ঘিরে ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ডকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীরা এসে যাতে আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে জন্য সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি ছিল।’
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/একে/আরএএম