চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঘরের সীমানা বিরোধের জেরে আপন বড় ভাই ও ভাবির হাতে নির্মমভাবে মারধরে নিহত ছোট ভাই জানে আলমের ঘটনার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭।
রোববার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার শান্তিরহাট ছোট বেতুয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি সূত্র।
আটককৃত আসামিরা হলেন-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা সিপাহীপাড়া এলাকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী খালেদা বেগম শামীম ও একই এলাকার মৃত উকিল আহম্মদের ছেলে খোরশেদ আলম (৪৫)। আসামিরা দুজনেই সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
র্যাব-৭ চট্টগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, আপন বড় ভাই ও ভাবী কর্তৃক নির্মমভাবে ছোট ভাইকে প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারপিট করে হত্যার বিষয়টি চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করায় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিকদল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভূজপুর থানার শান্তিরহাট ছোট বেতুয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি খালেদা বেগম শামীম ও খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হন্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানা যায় র্যাব-৭ এর একটি সূত্রে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঘরের সীমানা বিরোধের জেরে আপন বড় ভাই খোরশেদ আলমের স্ত্রী খালেদা বেগম শামীম ও বড় ভাই খোরশেদ আলমের হাতে নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছোট ভাই জানে আলম (৩৮)। নিহতের ভাবি খালেদা বেগম শামীম উপজেলার সরফভাটা সিপাহীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
গত ৯ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে ঘরের সীমানা নির্ধারণ করার বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১২ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই জানে আলম।
এ ঘটনায় নিহত জানে আলমের স্ত্রী জোসনা বেগম বাদী হয়ে গত ১২ এপ্রিল দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় জানে আলমের আপন বড় ভাই, ভাবি খালেদা বেগম শামীম ও ভাই খোরশেদ আলমের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম