চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠেছে চবি শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক দল সিক্সটি নাইনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অতঃপর প্রায় ঘণ্টা খানেক পরে প্রক্টরিয়াল বডির প্রতিশ্রুতিতে তালা খুলে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট স্থানের প্রধান ফটকে দুপুর ১টার দিকে তালা দেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এরপর প্রক্টরিয়াল বডি জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দিলে প্রায় ২টার দিকে তালা খুলে দেয়া হয়।
জানা যায়, মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম কফিল উদ্দিন সামি। তিনি আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের সামনে রোববার দুপুর ১টার দিকে মারধরের শিকার হন তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী সামির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আমরা একসঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ জন এসে তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারা শুরু করে। এরপর লোহার রড দিয়েও মারে। আমরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্টাফরা এগিয়ে এলে আমাদেরকেও মারতে উদ্যত হয়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ সিক্সটি নাইনের কর্মীরা তাকে মারধর করেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ সিক্সটি নাইনের কর্মীরা সামিকে মারধর করেছে। গত পাঁচ-ছয় বছরে আইন বিভাগ প্রাঙ্গণে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমারা সবাইকে জানাতে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এখানে বসেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা আমাদেরকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আমরা কাজ শুরু করেছি, এজন্য আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, আমার কাছে এরকম কোনো অভিযোগ আসেনি। এটা তদন্তের বিষয়। তদন্তে কিছু পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম