ফেনী বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় জিমনেসিয়াম ব্যাবসার আড়ালে সাধারণ মানুষদের জিম্মি রেখে ও মারধর করে মুক্তিপন আদায়কারী যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ উদ্দিন তোফায়েল সহ এই চক্রের ৫ সদস্য কে আটক করেছে র্যাব-৭
র্যাব জানায়, সম্প্রতি বেসরকারি কোম্পানীর এক কর্মকর্তা তার কাজ শেষ মদিনা বাস স্ট্যান্ড থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বাস ছাড়ার ১০-১৫ মিনিট পর বিসিক রাস্তার মাথায় দুই জন ছাত্র সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থেকে লোকটিকে নামিয়ে কথা আছে বলে তাকে একটি চায়ের দোকানের ভিতরে নিয়ে যায় এবং তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এরপর কয়কজন লোকসহ তাকে সিএনজিতে করে শহরের একটি জিমনেসিয়ামের নিচ তলায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে এবং তাকে এলোপাতা কিল ঘুষি ও চর-থাপ্পর দেয়। এবং ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত ফোন থেকে তাঁর স্ত্রীর কাছে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং মুক্তিপন না এলে তাঁর স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একপার্যায় তাঁর স্ত্রী বিকাশের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা পাঠালে অপহরণকারিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আপহরণকৃত ব্যাক্তির সাথে একটি মেয়ের আপত্তিকর ভিডিচিত্র মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে ধারণ করে এবং এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করে। অতপর তাঁর স্ত্রী কে ফোন করে বলেন যেখান থেকে পারেন টাকা এনে দেন, টাকা দিলে আপনার স্বামীকে ফেরৎ পাবেন না এবং টাকার সাথে আপনার স্বামীর এনআইডি কার্ড ও ডিবিবিএল এটি এম কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরবর্তীতে আপহরণকৃত ব্যক্তির স্ত্রী বৃহস্পতিবার ২৫ হাজার টাকা এবং তাঁর এনআইডি কার্ড ও ডিবিবিএল এটি এম কার্ড নিয়ে আসে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনাটি র্যাব জানার পর শুক্রবার রাতে বিসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা শর্শদী ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে ইমতিয়াজ উদ্দিন তোফায়েল (৩৪).আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৫),আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন(২৬),মৃত হারুন বাবুর্চির ছেলে জাহিদ হোসেন (১৫),দাগনভূঞার সিলোনিয়া এলাকার মোঃ কবিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম আরিফ(২১) কে আটক করা হয়।
ফেনীর র্যাব-৭ এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীড়ার মোহাম্মদ সাদিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিপনের জন্য মানুষকে অপহরণ করে পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে পরিবার পরিজনের নিকট হতে মুক্তিপন আদায় করে আসছে। গ্রেপ্তারের পর আটককৃত ৫ আসামিকে আইনয়ানুক ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ভোক্তভুগী বাদী হয়ে ৫ আসামির বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরআইটি/আরএএম