আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সমগ্র নগরী জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। পদপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের পোস্টার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে গেছে পথঘাট-অলিগলি। সম্মেলনের অতিথি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজর কাড়তে নানা রঙ বেরঙের এসব ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করা হয়েছে এবং যা দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শোভা পাচ্ছে পুরো নগরী জুড়ে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯ নভেম্বর। ৭ বছর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি দেওয়া হয়েছিল সম্মেলন ছাড়াই। এবার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হচ্ছে আগামি জাতীয় নির্বাচন ও ২৪ ডিসেম্বরের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে।
২০১৫ সালের শুরুতে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে সভাপতি এবং জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর প্রায় দুই বছর পর ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ২১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়।
সেই কমিটিতে ৯ জন সহ-সভাপতি ও ৩ জন যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে ২৩ এবং নির্বাহী সদস্য পদে ৩৪ জন ছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় ওই কমিটি থেকে কেউ বহিষ্কার, নিষ্ক্রিয় রয়েছেন এবং কেউ মারা গেছেন। অনেকে নানা মেরুকরণে ছিটকে পড়েছেন দল থেকে। বিশেষ করে বহিষ্কার হয়ে সদস্য পদ ও মেয়রের আসন হারিয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।
এমতাবস্থায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে আহ্বায়ক করে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি আসছে ১৯ নভেম্বর সম্মেলনের জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
এ উপলক্ষ্যে প্রতিদিন স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পার্টি অফিসে প্রস্তুতি সভা করছেন। ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে সুবিশাল আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিসহ অগনীত কেন্দ্রীয় নেতারা।
সম্মেলন ঘিরে পুরো শহর রঙিন পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলক্ষ্যে স্বাগত জানাতে তোরণ নির্মাণের প্রতিযোগিতা করছেন। শহরে প্রবেশ পথের বিভিন্ন সড়কে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ২০ থেকে ৫০ গজ অন্তর অন্তর এসব তোরণ নির্মিত হয়েছে।
সভাপতি পদে কমিটিতে আসতে তিন প্রার্থীর নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তারা হলো, মো. জাহিদ আহসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমউদ্দিন (বুদ্দিন)। তবে এদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের নাম বেশ জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান মতি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের সম্মেলন সফল করার জন্য সবধরণের প্রস্তুতি চলছে। সম্মেলনটি যেন মহা সম্মেলনে রূপান্তরিত হয়ে রাজবাড়ী মাঠ যেন লোকে লোকারণ্য হয় এর জন্য আমরা কাজ করছি।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, ১৯ থেকে ২০ বছর পর গাজীপুরে এমন একটি সম্মেলন হচ্ছে। এ সম্মেলন সফল করতে পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মিটিং মিছিল করছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আমরা আশা করছি লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি রাজবাড়ি মাঠকে অলংকৃত করে ইতিহাস রচনা করবে।
ডেকোরেটর মালিকরা বলেন, গাজীপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে। এজন্য এত তোরণ বানাতে আমরা কখনো দেখিনি। বিলবোর্ড, ব্যানার, ফ্যাস্টুন ও রঙিন পোষ্টারে ভরে গেছে পুরো শহর। সভাপতি পদে কমিটিতে আসতে তিনজন প্রার্থীর নাম প্রচারিত হলেও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, কে বলেছে আমি সভাপতি প্রার্থী। মুরব্বিদের সঙ্গে আমি কোনো প্রার্থী না। প্রার্থী হিসেবে আপনার নাম মাঠে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থাকতে পারে এর জন্য আমার কি করার আছে।
এছাড়া সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মহানগর আওয়ামী লীগের ১নং সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধ কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিন।
সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত এক ডজন প্রার্থী মাঠে প্রচারে রয়েছেন। তারা হলো, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ মন্ডল, অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী শামীম, সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন সরকার রিপন, যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হালিম সরকার, কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।
এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা সমীকরণ কষছেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন সেটি জানতে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করতে এবারই প্রথম ১ ডজনেরও বেশি কেন্দ্রীয় নেতা সম্মেলনে আসছেন।এত বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতার আগমন এখানকার রাজনীতিকে ভিন্ন মাত্রা ও উৎসব আমেজ এনে দিয়েছে।
আলোচকরা বলছেন, আজমত উল্লাহ- রাসেল পরিষদ গঠন হলে মহানগর আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে। অনেকেই বলছেন, বহিষ্কৃত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে সাধারণ সম্পাদক করে আজমত-জাহাঙ্গীর পরিষদ গঠন হলে সেটা হবে যথার্থ ও চমক। এতে বিরোধ মিটবে এবং জাতীয় নির্বাচনে গাজীপুর আওয়ামী লীগ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম