২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মানুষ ধান চাষ করে প্রতিকী প্রতিবাদ জানাতো। রাস্তা নির্মানের দাবিতে মানুষের কাফেলা শুরু করে গণ-আন্দোলন, ঘৃনা ও ধীক্কার জানাতে থাকে সেসময়কার জনসেবকদের বিরুদ্ধে।
জীবনের চিরন্তন পথচলা থমকে গিয়েছিল গাজীপুরের শ্রীপুরের অধিকাংশ প্রধান সড়ক চলাচলের উপযুক্ত না থাকার কারনে। বরমী থেকে বনশ্রীসহ যেসব বাস ঢাকায় চলাচল করত তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।ট্রেন পথে যমুনা ট্রেন শ্রীপুর রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতির জন্য শুরু হয় গণ আন্দোলন।
কথিত আছে, সেসময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথাকথিত উন্নয়নের রুপকাররা পরিবহন সেক্টর থেকে বিপুল অংকের টাকা প্রাপ্তির কারনে জনদাবি অগ্রাহ্য করেন। বিশেষ করে সর্বত্র পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজিতে একটি বিশেষ পরিবার ও তাদের শীর্ষ অনুসারিরা ছিল সিদ্ধহস্ত।তারা রিক্সা ভ্যান থেকে শুরু করে বাস, ট্রাক, বালির ট্রাক থেকে টোকেনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করত।
লাল নীল সাদা ও খুঁটা বাহিনির দাপট, বালির ব্যবসা,ভূমি দখল ছিল প্রকাশ্যে।মাদকের বিস্তারে একটি বিশেষ পরিবারের মূখ্য ভূমিকা ছিল সর্বজনবিদিত।রেজিস্ট্রি অফিস, থানা,শিক্ষা অফিসসহ সামাজিক শালিস বিচার পর্যন্ত হত মোটা টাকার বিনিময়ে।
রাজনৈতিক পদ বিক্রি,ঝুট ব্যবসা,মাসোহারাসহ প্যাকেট সংস্কৃতি আর পকেট কমিটির গ্যাড়াকলে বন্দি ছিল গাজীপুর-৩ আসনের সেসময়ের রাজনীতি। বিশেষ পরিবারটি ছিল এখানকার গণমানুষের ভাগ্যবিধাতা আর এখানকার জনগন ছিল তাদের কেনা দাস বা ভৃত্য।মানবতা পদদলিত হত সূর্যোদ্বয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।ছিনতাই, চুরি ডাকাতি রাহাজানি,গার্মেন্টস কর্মিদের বেতন ছিনিয়ে নেওয়া, ধর্ষণ,লুটপাটের স্বর্গপূরী ছিল শ্রীপুর।
ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে নেওয়া হত প্রশাসন ও অনুসারিদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনির সহায়তা।টর্চারসেলে অনেক জীবনকেই আত্মহুতি দিতে হয়েছে,বরন করতে হয়েছে বহুমুখি নির্যাতন।
শ্রীপুরের জনজীবন যখন কারবালায় পরিনত হয়,উত্তাল জনস্রোত প্রতিবাদের মুখর মিছিল হয়ে মানুষের কাফেলা তখন পরিবর্তনের দাবিতে এসে মিশে যায় বর্তমান এমপি ইকবাল হোসেন সবুজ'র ৬৬৭টি উঠান বৈঠকের কাফেলার মহাসমুদ্রে।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০ বছরের জুলুম অত্যাচার ও নির্মমতার রক্তাত্ব পাদপিঠ শ্রীপুর খুঁজে পায় সোনালী সকাল,উদিত হয় মানবিক সূর্য,আসে নতুন ভোর।
ইতিহাসের চলমান ধারার পরিবর্তন হয়।মানুষের উত্তাল কাফেলা স্পর্শ করে কাঙ্খিত স্বপ্নের সোনালী বন্দরে,একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।অবসান ঘটে বিশেষ পরিবারের বিশেষ অধ্যায়ের।যারা চিরদিন নিজেদেরকে শ্রীপুরের জনমানুষের প্রভূ মনে করত আর আ.লীগকে মনে করত তাদের পৈতৃক সম্পত্তি।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আজ সামিল গাজীপুর -৩ আসন।প্রতিটি প্রধান সড়ক আজ নতুন পিচের পরশে হাসছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভবণগুলো আজ উজ্জ্বল নক্ষত্রের দীপ্ত শিখার মত শেখ হাসিনা ও ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি'র মহত্বের গৌরব ঘোষণা করছে।
চাঁদাবাজি থেমে গেছে বহু আগেই,মাদকের করাল ছোবল নিয়ন্ত্রিত।লাল নীল খুঁটা বাহিনী এখন কল্পকাহিনী।পরিবহন সেক্টর আজ চাঁদাবাজমুক্ত।
গাজীপুর -৩ আসনের মুক্ত আকাশে আজ উড়ছে মানবিক পতাকা।স্বস্তি ও শান্তির অপার পরশে আজ মহিমাম্বিত এক সময়ের রক্তাত্ব জনপদ প্রকৃতির রুপসী কন্যা শ্রীপুর।
তবে ষড়যন্ত্রের কুটিল পথে ব্যর্থ, অত্যাচারি, অথর্ব,ঘৃণিত চক্রটি আবার প্রভু হতে নানা কুটকৌশলে ব্যাপৃত। কথিত জোট,গোপন আঁতাত,এক মঞ্চে অভ্যূদ্বয়ের অপেক্ষা,ক্ষমতা ভাগাভাগি,মিল ইন্ডাস্ট্রি কুক্ষিগত করে ফায়দা হাসিলেের মহাপরিকল্পনা নিয়ে অভিযাত্রা আসন্ন জাতিয় নির্বাচনকে ঘিরে।
তারা চায় তাদের পথের কাঁটা ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি'র সৎ রাজনীতি শেকড় থেকে উপড়ে ফেলে শ্রীপুরকে জাহেলিয়াতের যুগে ফিরিয়ে নিতে, চরম প্রতিশোধ নিতে উন্নয়নের অগ্রযাত্রার সচল চাকাকে থামিয়ে দিয়ে আখের গোছাতে।আবার শ্রীপুরের প্রভূ সাজতে।
অতি সম্প্রতি কতিপয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দূর্নীতি,লাগামহীন কথাবার্তা,কাজ না করে সরকারি বিপুল টাকার উত্তোলণ ও আত্মসাত,সাংবাদিককে ঘুষ প্রদানের চেষ্টা,টেলিফোনে এমপিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যকে পূঁজি করে এবং আগামি জাতিয় সংসদ নির্বাচনে এমপি'র চরিত্র হনন করে জনমত পক্ষে নিয়ে ফায়দা লুটতে পরিকল্পনার ছক সাজাচ্ছে একটি মহল।
ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে জাতিয় নির্বাচন।দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণ অনেকটাই টালমাটাল।এমতবস্থায় শ্রীপুরের শান্ত নিরাপদ এই জনপদের চলমান উন্নয়ণের ধারা অব্যাহত রাখতে সুসংগঠিত আত্মপ্রত্যয় দ্বীপ্ত ঐক্যবদ্ধ জনস্রোতই কেবল পারে সব চক্রান্তের দূর্গ ভেদ করে জীবনের অনুরননে নতুন সকালের শুভ্রতা ধরে রাখতে।
কিন্তু বাস্তবতা হল,রাজনীতির কাফেলায় সেই উত্তাল জনস্রোত আজ কিছুটা হলেও ম্লাণ।অভিমানের হিমালয় আকাশের শিখর ছুঁয়েছে।পাওয়া না পাওয়ার খতিয়ান নিয়ে দুয়ারে দাড়িয়ে আছে বিশাল জনস্রোত।জীবনের শুভ্রতা দিক পরিবর্তন করতে পারে যথাযথ কার্যকরি পদক্ষেপের অভাবে।
সম্পর্কের থমকে পড়া মেইলবন্ধন সচল না হলে,আত্মবিশ্বাস ছুঁয়ে যেতে ব্যর্থ হলে, চরম প্রতিশোধের লেলিহান শিখায় পুড়ে যেতে পারে নতুন ইতিহাসের বর্নীল পান্ডুলিপি।প্রতিশোধের লেলিহান শিখায় পুড়ে যেতে পারে, নতুন ইতিহাসের বর্নীল পান্ডুলিপি