গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার অনেক মানুষ ত্বীন ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কেউ বাণিজ্যিকভাবে আবার কেউ বা বাড়ির আঙিনায় স্বল্প পরিসরে শখ করে ত্বীন চাষ শুরু করেছেন। মরুভূমি এই ফল চাষে ক্রমশঃ আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার মানুষ।
বড় পরিসরে অনেকে ফলটি চাষ করে লোকসান গুণছেন বলে দাবি উপজেলার অনেক সাধারণ কৃষকের। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফলটি খেতে ভারি মিষ্টি ও সুস্বাদু হলেও শ্রীপুরের সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে এর ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এবং আবেদন।
বিশেষ করে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা গ্রামের অনেকেই এই ফল চাষ করে রীতিমত এখন বিরক্তি প্রকাশ করছেন।
পত্র-পত্রিকায় এই ফলের স্বাদের খুব নামডাক শুনে প্রথমে অনেকেই হাজার টাকা কেজি ধরে কিনে খায় কিন্তু স্বাদ নেই। তাই কোন কোন এলাকায় চাষিদের মধ্যে ত্বীন চাষে আগ্রহে ভাটা পড়ছে বলেও জানা গেছে।
উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকায় শিক্ষামন্ত্রী দীপুমণি এবং গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ একটি ত্বীন বাগান পরিদর্শণ করার পর এই ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে এখানকার চাষিরা। অন্যদিকে, বারোতোপা গ্রামে মর্ডান এগ্রো ফার্ম এন্ড নিউট্রিশন নামের ফল বাগানে তিন থেকে চার বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ত্বীন ফল চাষ করা হয়েছে। তারা আরো জমি ক্রয় করেছেন এটি চাষ করার জন্য। বাগানের ম্যানেজার দিবাশিষ শাহা বলেন, আমরাই প্রথম দেশে বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষ শুরু করি এবং বর্তমানে আমরা সফল। সঠিক নিয়মে যে কেউ চাষ করলেই এই ফল চাষে সফলতা ধরা দেবে। অন্যথায় লোকসান গুণতে হবে। তিনি আরও জানান, তাদের বাৎসরিক বিক্রি বা বিক্রির বাজার কেমন তা জানতে চাইলে সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছেন বলে জানান।
উপজেলার ভাংনাহাটি গ্রামের হাজী আবদুস সাত্তার এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নিউট্রিশন নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে ত্বীন ফলের চাষ করেছেন। এই ফার্মের ম্যানেজার মেহেদি হাসান জানান, এখানে মিশরীয় ব্রাউন, সৌদি ইয়োলো জাতের প্রায় তিন হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছ কাটিং করে প্রস্তুত করেছেন কলমের চারা। সেই চারা চাষিদের মধ্যে বিক্রিও করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ ফলের বাজার মূল্য প্রায় এক হাজার টাকা কেজি। প্রতি চারার মূল্য ৫০০ টাকা। তবে ছয়টি বা দশটি নিলে প্রতিটি চারার মূল্য ৪০০ টাকা এবংদশটির অধিক চারা ক্রয় করলে প্রতিটি চারার দাম ৩০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএসএম মূয়ীদুল হাসান জানান, ত্বীন একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল। যা মরু অঞ্চলে হয়। বছরের ৩৬৫ দিনই উচ্চ ফলন পাওয়া যায়। রোগবালাই নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, চারা লাগানোর তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। একটি ত্বীনগাছ ফল দিয়ে থাকে অন্তত আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত।
বাংলাদেশের কৃষকরা এ ফল চাষে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ তাদের সবধরণের সহায়তা করবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম