শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : গাজীপুর

রাণী এলিজাবেথের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি বৈরাগীরচালাবাসির


গাজীপুর প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2022-09-10 19:18:15
রাণী এলিজাবেথের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি বৈরাগীরচালাবাসির

ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিয়ানব্বই বছর বয়সে দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবন পিছনে ফেলে ইহলোক ছেড়ে চলে গেছেন বৃহস্পতিবার রাতে।

তার মৃত্যুর খবরে সারা বিশ্বের মত রাষ্ট্রিয়ভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছে বাংলাদেশ।কিন্তু রাণী এলিজাবেথকে অন্য আঙ্গিকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে গাজীপুরের বৈরাগীরচালাবাসি।

১৯৮৩ সালের নভেম্বরে চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছিলেন রাণী এলিজাবেথ বাংলাদেশে।সে সময় তিনি শ্রীপুর থানা আ.লীগের পথিকৃত সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মিজানুর রহমান খানের আমন্ত্রণে স্বনির্ভরগ্রাম বৈরাগীরচালার নৈঃসর্গিক প্রকৃতির কোলে এসে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

ঢাকা থেকে একটি বিশেষ ট্রেনে করে তিনি আসেন শ্রীপুর রেলষ্টেশনে। সেখানে তাকে বর্ণীল স্বাগত জানানো হয়।এরপর একটি গাড়িতে করে তিনি আসেন মিজানুর রহমান খানের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক বৈরাগীরচালায়।রানীর আগমন উপলক্ষে তখন এ এলাকায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।

ঢেঁকিতে ধানভানা, মুড়ি চিড়া তৈরি, পুকুর থেকে জীবন্ত মাছ উত্তোলন এবং তা রাণীর পায়ের কাছে আছড়ে পড়া, তাঁতশিল্প এবং আক্রব আলী খান প্রতিষ্ঠিত বৈরাগীরচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করেন তিনি।

অতি সম্প্রতি রাণীর আগমনের অর্ধশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিবিসি বৈরাগীরচালায় সরেজমিনে প্রতিবেদন ও তথ্যচিত্র সংগ্রহে আসে।সে সময়ে রাণীকে নানা কাজ দেখিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন যারা তাদের মধ্যে জীবিত নারীদের সাক্ষাৎকার ও সচিত্র প্রতিবেদন গ্রহন করে।

মিজানুর রহমান খানের সুযোগ্য উত্তরসূরী আলহাজ্ব এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন খান সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শি হিসেবে সেদিনের ঐতিহাসিক মূহুর্তের ধারা বর্ণনা দেন বিবিসি প্রতিবেদকের কাছে।

মহাকালের পথ পরিক্রমায় রাণীর স্মৃতি বিজড়িত সেই স্কুল, পুকুর টিকে থাকলেও বাকি সবকিছু আজ বিলুপ্ত।আধুনিকতার ছোঁয়ায় সবকিছু বদলে গেলেও রাণীর স্মৃতি রোমন্থন করেন এখনো এখানকার মানুষ। রাণীর মৃত্যুকে ঘিরে এই এলাকার সেদিনের সারথীরা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে ১৯৮৩ সালের ১৬ নভেম্বর পরিদর্শণে আসা পরম প্রিয় রাণী এলিজাবেথকে।

সেদিন গ্রামবাসী রাণীকে রূপার প্রতিকী চাবি উপহার দিয়ে এই গ্রামে আবার আসার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি জীবদ্দশায় আর আসেননি। তবে রাণীর স্মৃতি ধরে রাখতে এখানে একটি মিউজিয়াম বা বৈরাগীরচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রাণীর নামে নামকরণের দাবি এখন গ্রামবাসীর। বাড়িতে কালো পতাকা উড়িয়ে শোক পালনরত গ্রামবাসীর দাবি সরকার রাণীর স্মৃতি সংরক্ষণে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে অচিরেই।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম