গাজীপুরের কালীগঞ্জ জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিরিনা আক্তার ৩০ নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ৬ আসামিকে জেলগেটে ২ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত অগ্রগতির জন্য গ্রেফতারকৃত ২ আসামিকে আরও ৫ দিনের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মশিউর রহমান এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, কালীগঞ্জ জনসেবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় নিহত প্রসূতির স্বামী উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চুয়ারিয়াখোলা গ্রামের মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মিয়া ৩৯ বাদী হয়ে চিকিৎসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ ৯ জনের নামে ও ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলায় গ্রেফতার ৬ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে গত ২৫ আগস্ট আদালতে আবেদন করা হয়।
পরে রিমান্ড শুনানি শেষে ২ দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দেন গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর বিচারক রাগীব নূর।
অভিযুক্তরা হলেন- টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার আগদেউলি গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে ওটি বয় আশিকুর রহমান আশিক ২৫, কালীগঞ্জের পিপ্রাশৈর গ্রামের অরুণ কস্তার মেয়ে সিনিয়র নার্স সংগিতা তেরেজা কস্তা ৩৩, তুমলিয়া গ্রামের ক্লেমেন্ট ক্রুশের স্ত্রী জুনিয়র নার্স মেরী গমেজ ৪০, একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে হাসপাতালের অন্যতম অংশীদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বন্যা আক্তার ৩১, ঢাকার লালবাগ এলাকার ধানেছ আলীর মেয়ে রিসিপসনিস্ট শামীমা আক্তার ৩২, বালীগাঁও গ্রামের শরিফ মিয়ার স্ত্রী নার্স সীমা আক্তার ৩৪।
এছাড়াও বালীগাঁও গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে জনসেবা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম ৩১, টাঙ্গাইল সদরের পাড়াদিঘুলীয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ৫০ এবং মাগুরা জেলার মহাম্মদপুর থানার নজির মিয়ার ছেলে প্যাথলজিস্ট শাওন (২৪) নামের তিনজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
এসআই মো. মশিউর রহমান খান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের গত ২ দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্ত অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে মামলা তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলেননি তারা।
তিনি আরও জানান, অধিকতর তদন্তের জন্য গ্রেফতারকৃত বন্যা আক্তার ৩১ ও আশিকুর রহমান আশিককে ২৫ নামের দুই আসামিকে আরও ৫ দিনের জন্য গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন অভিযুক্ত ৬ আসামিকে আটক করে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। পরে অবহেলার কারণে মৃত্যুর ঘটানোয় মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
21 আগস্ট জনসেবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় শিরিনা আক্তার নামের প্রসূতির মৃত্যু হয়। রক্তশূন্য প্রসূতি ওই রোগীর এবি পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন থাকলেও তাকে পুষ করা হয় বি পজিটিভ রক্ত।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনজুর-ই-এলাহী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি ডাক্তার সানজিদা পারভীনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির বাকি ২ সদস্য হলেন- একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মুনমুন আক্তার ও মো. এমরান (অ্যানেস্থেসিয়া)।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/রাব্বি/আরএএম