গাজীপুরের কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামীলী যুবলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করে বাচ্চা প্রসব ও বাচ্চাসহ কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে গাজীপুর আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত (পিটিশন মামলা নং ২২৭/২২) থেকে এই তথ্য জানা যায়।
মামলার বাদী ভূক্তভোগী মেয়ের পিতা। পিটিশন মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। মামলায় চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেনকে একমাত্র আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কিশোরী গৃহকর্মীকে স্ত্রীর অনুপুস্থিতিতে প্রায়ই ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করতেন চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রধান। এক পর্যায়ে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে গেলে দুই মাস আগে চেয়ারম্যান তার বাড়ির কাজের লোকের সাথে জোরপূর্বক গর্ভবতী কিশোরীকে বিয়ে পড়িয়ে দেন। অতঃপর ১ আগষ্ট গর্ভবতী কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তরগাঁও খেয়াঘাটে এক বাসায় ভাড়া রাখেন চেয়ারম্যান।
গত ১৬ আগষ্ট মেয়েটিকে কাপাসিয়া সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বাচ্চা প্রসবের পর বাচ্চাসহ কিশোরীকে পুণঃরায় ভাড়া বাসায় ফেরত আনা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে সাংবাদিকরা ওই ভাড়া বাসায় ভীড় করে ও মেয়ের ভিডিও বক্তব্য ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য চেয়ারম্যান ২৯ আগষ্ট রাতে বাচ্চাসহ মেয়েটিকে ভাড়া বাসা থেকে নিয়ে যায়। কিন্তু চেয়ারম্যান কিশোরী ও বাচ্চা নেননি বলে সাংবাদিকদের ডেকে জানিয়ে দেন।
গত ৩১ আগষ্ট সাংবাদিকদের নিকট চেয়ারম্যান কিশোরীর একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। দ্বিতীয় এই ভিডিওতে চেয়ারম্যান নির্দোষ বলে মেয়েকেটিকে বলতে শোনা যায়। কিন্তু মেয়েটি কোথায় থেকে এই ভিডিও করেছে সে সম্পর্কে চেয়ারম্যান কোন বক্তব্য দেননি।
এদিকে ভাড়া বাসার লোকজন সাংবাদিকদের জানান, গত (২৯ আগস্ট ২০২২) ভাড়াটিয়া ওই কিশোরীর নিকট চেয়ারম্যানের স্ত্রী নাজমা আক্তার শান্তা ও শান্তার ভাই ছাড়া আর কেউ আসেনি। এই ঘটনার পর চেয়ারম্যান মেয়েটিকে বাচ্চাসহ অপহরণ করেনি বলে জানালেও অপহৃত অবস্থায় ভিডিও দেখিয়েছেন তিনি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রধান বলেন, তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নন। ডিএনএ টেষ্টে তিনি অপরাধী হলে স্ত্রী সন্তান মেনে নিবেন।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান নারী ইউপি সদস্য ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনের নামে কাপাসিয়া থানায় জিডি ও অভিযোগ করেছেন।
এসব বিষয়ে কাপাসিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ 'এফ এম নাসিম' জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি, কিন্তু কেউ কোনও লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হতো। তবে মেয়েটি নিখোঁজের পর থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং চেয়ারম্যানকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
ব্যাপক আলোচিত এ ঘটনার পর ধর্ষিতা সদ্য বাচ্চা প্রসূত অপহৃত মেয়েটির বাবা আজ গাজীপুর আদালতে চেয়ারম্যানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরআইটি/আরএএম