জীবনের অঙ্গণ থেকে রাজনীতি তার ঐতিহ্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে অনেক আগেই।
কোন দল বা নেতার ডাকে আগের মত এখন আর উত্তাল হয় না রাজপথ।মানুষ এসব কাজকে এখন অপ্রয়োজনীয় মনে করে।
রাজনৈতিকরা জনতার বিশ্বাসযোগ্যতার বৃন্ত থেকে থেকে বহুবিধ কারনে ছিটকে পড়েছেন অনেক আগেই।কারন নেতাদের কথা আর বাস্তবতার মাঝে ফারাক এটা জনগনের কাছে প্রকাশ্য।
ক্ষমতায় যাওয়ার আগের কথা আর ক্ষমতার ফুলেল চেয়ারে বসে বলা কথা এক নয় তা এদেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে বুঝে গেছে।
এখনকার রাজনীতি ব্যবসায়িক বৃত্তে বন্দি।জীবনকে সাজাতে,সুরক্ষিত অর্থ প্রাচীর বিনির্মানে রাজনীতির চাকা এখন আবর্তিত।জনগন একটা সামান্য উপলক্ষ বা অনুভূতি মাত্র।
বৈশিষ্ট ও চরিত্রগত দিক বিবেচনা করলে এদেশের রাজনৈতিকদের চরিত্রগত পার্থক্য নেই বললেই চলে।ক্ষমতায় যাওয়া আর আখের গোছায়ে নিজের জীবন ও পরিবারকে সুরক্ষিত করাই মূলত তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য।
একজন বঙ্গবন্ধু,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এদেশে আর জন্ম নেবেন কি না তা সুদুর পরাহত।ক্ষমতায় যাওয়া,একে অপরকে টিক্কা দিয়ে কূপোকাত করে সেই চেয়ার দখল করে নিজের আখের রচনা করা মৌলিক নীতিতে পরিনত হয়েছে জনসেবা বা রাজনীতির নামে।
রাজনীতি তার মৌলিক নির্যাস হারিয়েছে অরাজনৈতিক ব্যবসায়িক বৃত্তে আটকে পড়ে।পারিবারিক বলয় সৃষ্টি,ক্ষমতা ধরে রাখার মনোবৃত্তি,ক্ষমতাকে ব্যবহার করে পূঁজিপতি হওয়ার লিপ্সা,দূর্দিনের সারথীদের মনে না রাখা,যোগ্য নেতৃত্বকে পদায়ন, মনোনয়ন না দেওয়া, বিনিময় প্রথা চালু ইত্যাদি কারনে রাজনীতি যেমন তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বকীয়তা হারিয়েছে তেমনি জনসম্পৃক্তা থেকেও ছিটকে পড়েছে।
গাজীপুর -৩ আসনে ১৫ ই আগস্ট মঞ্চস্থ হলো ত্রি-খন্ডিত আ.লীগের শোক কর্মসূচি।একজন এমপিকে বিতর্কিত করতে, ক্ষমতার ফুলেল মঞ্চে আরোহন করতে, ভবিষ্যত ব্যবসায়িক সুরক্ষা অর্জন করতে সর্বপোরি দলটির জাতিয় কর্মসূচিতেও তারা বিভক্তির কথিত রাজনীতি উপহার দিলেন শ্রীপুরবাসিকে।
যে নেতারা দলের কর্মসূচিতে এক মঞ্চে আসতে পারেন না,বিভক্তি ও বিভাজনের মহাসমুদ্র তৈরি করে নিজের আমিত্ব প্রকাশে জনগনকে সিঁড়ি বানিয়ে দলের নীতি আদর্শের তোয়াক্কা করেন না তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও স্থিতিশীল রাজনীতি জনগন আশা করতে পারে না।
একটি এলাকার শীর্ষ নেতারা যখন দলের জাতিয় কর্মসূচির প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন মঞ্চে অবস্থান গ্রহন করেন তখন দলের সাধারন কর্মিরা খন্ডিত হবে সেটাই স্বাভাবিক।
এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মূখ্যত, একজনকে হটিয়ে অপরজনের ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সাই প্রধান।স্বার্থ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই এই বৈরীতা।অনেক নেতা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থে ব্যর্থ হয়ে চক্রান্ত,ষড়যন্ত্র ও বিভাজন এবং ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে হটিয়ে নিজের টার্গেট বাস্তবায়ণে জনগনকে ব্যবহার করে থাকে।এখানে ব্যক্তির চেয়ে দল ক্ষতিগ্রস্থ হয় বেশি তাদের হীন রাজনৈতিক মনোবৃত্তির কারনে।
অপরদিকে এসব কর্মসূচিতে বিভাজন ও নেতা ভিত্তিক রাজনীতির প্রচরিত রীতি প্রকট থাকায় এক দল ও এক আদর্শের অনুসারি হওয়ায় পরও তাদেরকে দলের জাতিয় কর্মসূচির প্রশ্নে এক মঞ্চে দেখা যায় না।
গভীরে তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়,ক্ষমতা থেকে প্রতিপক্ষকে বিতাড়িত করে সেই আসনে আসীন হওয়া নেতাদের মৌলিক উদ্দেশ্য থাকায় তারা এক বৃত্তে আসতে পারেন না।
এখানে নীতি আদর্শ বা রাজনীতির কিছু নেই, মূখ্য টার্গেট থাকে অন্যকে হেয় করে তার চেয়ার দখল করা।এক কথায় ক্ষমতায় যাওয়া, জনগন ও রাজনীতিকে ব্যবহার করে।
অন্যদিকে যে যখন ক্ষমতায় থাকেন তখন তিনি নিজ মতবাদ ও নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে আজীবন টিকে থাকার লড়াইয়ের ছক সাজান।পদ পদবি প্রদানে ভুল নেতা নির্বাচন,নিজস্ব বিশ্বস্ত লোক, যে যদি অযোগ্যও হয় তাকে শীর্ষ অবস্থান প্রদান ও অর্থের উৎসমূলের দায়িত্ব প্রদান,যোগ্য সৎ নেতৃত্বকে অবহেলা বা অবমূল্যায়ণ করা এদেশের চলমান রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ করায় জনবিমুখতা এসে ভর করে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে।
ক্ষমতার পাদপীঠে দাড়িয়ে প্রত্যেক নেতৃত্বই মনে করেন তিনি যা করছেন তা জনগন জানে না।অর্থাৎ নিজেকে সর্বজ্ঞানী বিজ্ঞ বিশারদ আর জনগনকে বোকা মনে করেন।
বাস্তবতা হচ্চে মানুষ তার অপকর্ম যত সংগোপনেই করুক না কেন তার খতিয়ান জনসমুখে আসেই।যখন আসে তখন তার আর শুধরানোর কোন পথ সামনে থাকে না।
পেশীশক্তি দিয়ে টিকে থাকা যায় না।ব্যর্থ নেতৃত্ব যত চেষ্টায় করুক না কেন তারা জনতার বিশ্বাসযোগ্যতার সীমানায় কখনো ফিরে আসতে পারে না, এই সত্যগুলো রাজনৈতিকরা ভুলে যায়।
ক্ষমতা অধিকাংশ নেতৃত্বকে অন্ধ করে দেয়।কিন্তু সেই নেতৃত্ব ভুলেও বুঝতে চেষ্টা করেন না তার পরিক্ষিত সহচররা অভিমানে আজ তার সাথে নেই।
আর এই অভিমানের তখনই জন্ম হয়, যখন পরিক্ষিত মুখগুলো সঠিক মূল্যায়ণ না পেয়ে রাজনৈতিক প্রতারণা ও বঞ্চনার বেলাভূতিতে সকরুণ আর্তনাদ নিয়ে নিরবে দাড়িয়ে থাকে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম