শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : গাজীপুর

শ্রীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ব্যবসায়ি খুনের রহস্য উন্মোচন,গ্রেফতার-২


সদরুল আইন
DhakaReport24.com || 2022-07-21 09:39:30
শ্রীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ব্যবসায়ি খুনের রহস্য উন্মোচন,গ্রেফতার-২

গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনকে (৬০)কে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। 

নিহতের ছেলে ও ভাতিজার পরিকল্পনায় এ খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ময়মনসিংহের পাগলা থানার কোকসাইর এলাকার কেরামত আলীর ছেলে আলম (৩৮) একই জেলার ত্রিশাল উপজেলার কুষ্টিয়া এলাকার আবু কালামের ছেলে আরাফাত (২৬)।

পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি পশ্চিম পাড়া (নতুন বাজার) এলাকার মৃত হাজী আব্দুল মালেকের ছেলে গিয়াস উদ্দিন বাড়ীর পাশে অটো রিক্সার গ্যারেজসহ অটোরিকশা তৈরি ও ক্রয়-বিক্রয় করতেন। 

ওই গ্যারেজে ভাড়ার বিনিময়ে ব্যাটারি চার্জ করাসহ বিভিন্ন অটো রিক্সা রাখা হতো। ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিদিনের মতো রাতে গ্যারেজের ভিতর একপাশে কাঠের চৌকির উপর ঘুমিয়ে পড়েন গিয়াস উদ্দিন। পরদিন সকালে সেখান থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। শ্রীপুর থানা পুলিশ প্রায় ৩ মাস মামলাটি তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। এর প্রেক্ষিতে মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে মামলাটির পরবর্তী তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় গাজীপুরের পিবিআইকে।

তিনি জানান, পিবিআই’র তদন্তকালে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের কোকসাইর এলাকা থেকে আলমকে এবং গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া এলাকা হতে আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেন তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান।

তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদেরকে জড়িয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামীদের নাম উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতে ক্লুলেস এ ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই’র) ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা ভিকটিম ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতো। জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী সাহাবুদ্দিন গংয়ের বিরোধ চলে আসছিলো। এর জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার ছেলে আবুজর (৩২) এবং ভাতিজা সবুজ (৩২)। সবুজ একই এলাকার সিরাজের ছেলে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে ছেলে ও ভাতিজা এবং আলম ও আরাফাত তাদের সহযোগীদের নিয়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে খুন করে। পরে গ্যারেজে রাখা অটোরিকশার কয়েকটি ব্যাটারি নিয়ে একটি অটোরিকশা যোগে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।


ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/রাফিও/আরএএম