গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় বদলি করা একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে গঠিত' সেভেন স্টার''গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার পুরো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, শ্রীপুরের মূলাইদ সপ্রবি সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমান ফরহাদকে উচ্চ মহলের সুপারিশে গত ২/১/২০১৮ ইং তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিউল হক সাক্ষরিত স্মারক নং জেপ্রশিঅ/গাজী/১২৮০, স্মারকে কাপাসিয়ার কাউয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
কিন্তু তিনি সেখানে যোগদান করার পর জেপ্রশিঅ/গাজী/২০১৯/ ১৮৩২ স্মারকে শ্রীপুরের মূলাইদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটিশনে ফিরে আসেন।প্রকৃত অর্থে তিনি কাপাসিয়ার উক্ত স্কুলের শিক্ষক এবং বেতন ভাতাও সেখান থেকে গ্রহন করে থাকেন।
প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, তিনি শ্রীপুরে যোগদান করেই গড়ে তোলেন 'সেভেন ষ্টার' শিক্ষক গ্রুপ।যার নেতৃত্বে রয়েছেন কয়েক বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির শিক্ষক নেতা লুৎফর রহমান ফরহাদ।
এই সেভেন স্টার গ্রুপের অন্য সদস্যরা হলেন, জহিরুল হক সবুজ, আবু কাইয়ুম ওরফে কাইয়ূম পারভেজ,আবুল কালাম ফকির,আনোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন এবং মোঃ আনিচুর রহমান।তারা প্রত্যেকেই শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
প্রাপ্ত অভিযোগে থেকে জানা গেছে, এই সেভেন স্টার গ্রুপ লুৎফর রহমান ফরহাদের নেতৃত্বে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ'র নাম ব্যবহার করে শ্রীপুরের শিক্ষকদের নানা ভয় ভীতি দেখিয়ে সাধারন শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে থাকেন।তাদের ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস দেখায় না।
প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, লুৎফর রহমান ফরহাদ আগের উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুল হাসানকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে চাকুরী ছাড়তে বাধ্য করেন।তার সাথে মামলায় জড়িয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছান।
কয়েক মাস আগে নতুন উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ যোগদান করার পর তিনি তাকে ম্যানেজ করতে চেষ্টা করেন।কিন্ত তিনি তাকে পাত্তা না দিলে সে আবার পূর্বের ন্যায় ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
উল্লেখ্য কিছু দিন পূর্বে লুৎফর রহমান ফরহাদ নিজ উদ্যোগে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে না জানিয়ে ১৬৬ সঃপ্রাঃ জাতির জনকের ৭ই মার্চের ভাষনের ছবি ও একটি করে গাছের চারা বিতরনের কর্মসূচী গ্রহন করেন।
তিনি এ কর্মসূচি গাজীপুর-৩ আসনের এমপি নির্দেশ করছেন বলে শিক্ষকদের কাছে প্রচার করেন।পরবর্তিতে বিষয়টি এমপি ইকবাল হোসেন সবুজ'র দৃষ্টিতে আনা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
যে কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানে কিছু করতে গেলে কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়, কিন্ত জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে এ ব্যাপারে কিছুই না জানিয়ে লুৎফর রহমান ফরহাদ জাতির জনকের ছবি শ্রেনী কক্ষে লাগানো নিয়েও একটি অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করেন।
জেলা, উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করে, তার এ ধরনের হাজারো কর্মকান্ড রয়েছে।এসব সরকারি প্রতিষ্ঠান তার কাজে বাধা দিলে তিনি বলে বেড়ান শিক্ষা অফিসারগণ জাতির জনকের ছবি লাগাতে বাধা দিয়েছেন।তাদেরকে জামাত শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধী বলেও আখ্যা দিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়ে বশে আনতে চেষ্টা চালান।
কিন্ত এবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ ব্যাপারে বাধা প্রদান না করায় তার জামাত শিবির বা স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যা মিশন সফল হয়নি।একজন সহকারি শিক্ষকের এহেন হাজারো অনৈতিক কর্মকান্ডে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণ বিব্রত।
শ্রীপুর উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত করার জন্য তিনি তদবির করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এভাবে সে তার ২য় স্ত্রীকেও একটি বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন করেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া বদলি বাণিজ্যেও রয়েছে তার মূখ্য ভূমিকা।এসবক্ষেত্রে তিনি এমপি,জেলা শিক্ষা অফিসারের নাম ব্যবহার করে সাধারন শিক্ষকদের প্রলুব্ধ করেন বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে প্রশাসনিক কারনে উপজেলার বাইরে কাপাসিয়ায় বদলী করেন,কিন্ত সাময়িক সংযুক্তির মাধ্যেম তিনি আবার মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।যদিও সাময়িক সংযুক্তির একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে কিন্ত তার বেলায় অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে সরকারি মেয়াদ প্রযোজ্য হয়নি।
শ্রীপুর উপজেলার অগনীত শিক্ষক, শিক্ষা অফিসের কর্তাব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে লুৎফর রহমান ফরহাদের রোষানলে পড়েছেন।চরম হয়রানি ও ভীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএইচ/আরএএম