গাজীপুরে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নিয়ে চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় স্বীকার সাধারন মানুষ। ভোগান্তির শেষ নেই ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ ও সংশোধন করতে আসা নাগরিকদের।
অসচেতনভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করায় ইউনিয়ন ও পৌর পর্যায়ে বাড়ছে ভুলের সংখ্যা। নামমাত্র সরকারি ফিতে এসব সেবা দেয়ার বিধান থাকলেও অভিযোগ উঠেছে নানা অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,সার্ভার কাজ করে না এমনি অজুহাতে বলা হয় গাজীপুর যেয়ে কাজ করতে হবে।এ জন্য দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা।যারা ঝামেলা এড়াতে চান তারা সংশ্লিষ্টদের সাথে দফারফা করে নেয়।অন্যরা সরকারি ফি দিয়ে ঘুরতে থাকেন মাসের পর মাস।অনেকেই অনলাইন জন্মসনদ সময মত না পাওয়ায় ভোটার হওয়াসহ জরুরি কাজ করতে ব্যর্থ হন।
জানা গেছে পৌরসভা ও ইউনিয়সমুহে এ কাজে যারা নিয়োজিত রয়েছেন তারা অধিকাংশই অদক্ষ।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শত শত মানুষ ভোগান্তিতে স্বীকার । তাদের অভিযোগ তথ্য যাচাই-বাছাই সঠিকভাবে না করায় বাড়ছে ভুলের সংখ্যা।
এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে চলমান ভোটার তালিকায় নিজেদের অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন সেবায়। তারা বলছেন, চাহিদামতো টাকা দিতে না পারলে কোথাও কোথাও করা হচ্ছে নানা অজুহাতে হয়রানি।
স্থানীয়রা বলেন, সরকারি নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা। সংশোধনের কোনো ফি নেই। তারপরেও আমাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেয়া হয়েছে।
এদিকে সার্ভারের ধীরগতির কারণে দ্রুত এসব কাগজপত্র সংশোধন করাও কঠিন। তবে সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের যারা এই বিষয়গুলো নিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকে, তারা যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তার অনুরোধ করছি।
যদি কোনো অবহেলা বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয় তবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরকারি নিয়মে, জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিবন্ধন করা গেলেও ৫ বছর বয়সীদের ২৫ টাকা, তারও বেশি বয়স্কদের ৫০ টাকা ফি দিতে হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে ২ হাজার ১০ সাল থেকে অনলাইনে নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।
কিন্তু ইউনিয়ন ও পৌর পর্যায়ে সঠিক জনবল না থাকায়, অদক্ষ লোক এ কাজে নিয়োজিত থাকায় জনহয়রানি এখন চরমে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএম/আরএএম