উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেতে শত কোটি টাকা ব্যয় করেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন গাজীপুরের শিল্প কলকারখানার মালিকরা।
অভিযোগ উঠেছে মালিকদের সঙ্গে চুক্তি ভেঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। এমনকি আদালতের নির্দেশনাও তোয়াক্কা করেনি তারা।
মালিকপক্ষের দাবি, এতে জেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের গার্মেন্ট, টেক্সটাইল, ডাইং, ঔষধসহ নানা ধরনের কারখানার রপ্তানি কার্যক্রম এবং লক্ষাধিক শ্রমিক নিয়ে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন তারা।
গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের একটি লাইন থেকে পাশের অন্য লাইনে গ্যাস স্থানান্তরে বিক্ষুব্ধ মালিকপক্ষ জানান, জেলার রাজেন্দ্রপুর থেকে ধনুয়া পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার আলাদা একটি গ্যাস লাইনের নোমান গ্রুপ, পারটেক্স গ্রুপ, ইপিলিয়ন গ্রুপসহ ৩৫টি শিল্প কারখানার মালিকগণ প্রায় ৬ বছর আগে একশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এবং সে অনুযায়ী অন্য কাউকে এই লাইন থেকে গ্যাস সরবরাহ না করার সমঝোতা চুক্তিতে তাদের জন্য নির্ধারিত লাইন টানা হয়।
কিন্তু সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের খবর পেয়ে ওই কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাতে এই মালিকদের সাথে সমঝোতা ছাড়া অন্য কাউকে গ্যাস দেয়া যাবে না এমন এক নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত।
তাদের অভিযোগ, হঠাৎ করে রাতের আঁধারে পাশের একটি লাইনে গ্যাস স্থানান্তরের কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। এরপরও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাপ্তাহিক বন্ধের রাতে তড়িঘড়ি করে গ্যাস স্থানান্তরের কাজ করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
এই স্থানান্তরের কারণেই তাদের কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন মালিকপক্ষ। দ্রুত এর প্রতিকার চান তারা।
গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল আলম জানান, মহাসড়কে এ ধরনের খোঁড়াখুঁড়ি করতে সড়ক বিভাগের অনুমতি লাগে।
অনুমতি তো দূরের কথা বরং সড়ক বিভাগের বাঁধা উপেক্ষা করে ভেকু দিয়ে মাটি খোঁড়ার কাজ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া শ্রীপুর উপজেলার তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সামনে মহাসড়কে রাত ১০টার পর খোঁড়াখুঁড়ির খবর পেয়ে তিনি তার অফিসের স্টাফ পাঠিয়ে বাধা দিয়েছেন। ওই রাতে এর আগেও দু’টি স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন।
তবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এজিএম মোমিন তালুকদার বলেছেন, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আশেপাশের কিছু কারখানায় গ্যাসের চাপ বাড়াতে নিয়মনীতির মধ্যে থেকেই অন্য একটি লাইনে গ্যাস স্থানান্তরের কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের কোনো নির্দেশনা আছে কিনা, জানা নেই। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিক অনুমতি নিয়ে তারা কাজ করছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএম/আরএএম