বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : গাজীপুর

ফলোআপঃ গাজীপুরের অসহায় আসমার পাশে শ্রীপুরের এক ঝাঁক তরুণ


DhakaReport24.com || 2022-06-07 22:28:00
ফলোআপঃ গাজীপুরের অসহায় আসমার পাশে শ্রীপুরের এক ঝাঁক তরুণ

#সদরুল আইন_গাজীপুর

বহুল প্রচারিত 'ঢাকারিপোর্ট২৪.কম' এ গতকাল 'অসহায়ত্বের কাছে অসহায় গাজীপুরের আসমা' শিরোনামে আমার লেখা একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়।


রিপোর্টটি দৃষ্টিগোচর হয় শ্রীপুর উপজেলার তানজিন আহমেদ সোহানসহ বেশ কিছু তরুণের । তাদের হৃদয় নাড়া দেয়। মানবতার হাত বাড়াতে সোহান সাথী করে নেন শুভ,  শাকিল ও নাহিদকে। তারা ছুটে যান অসহায় আসমার সন্ধানে। সারাদিন অনুসন্ধান করে এলাকাবাসির সাহায্য নিয়ে আসমাকে না পেয়ে সোহান আমাকে(লেখক) ফোন করেন।


আমার পরামর্শে তারা উপজেলা পরিষদে যান এবং আসমা ও গ্রামটিকে খুঁজে পেতে প্রশাসনের সাহায্য নেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় সারাদিনের ক্লান্তিহীন পথযাত্রায় আজ বিকেলে তারা খুঁজে পান আসমার টোং দোকান এবং ৭০ বছরের সংগ্রামী মুখ আসমাকে।


অসহায় আসমার জীবন কাহিনী শোনেন। আসমাকে দোকানে বসিয়ে রেখে শ্রীপুরের তরুণ দল পাশের বাজার থেকে বেশি  বিক্রি হয় এমন উপকরণে সাজিয়ে দেন আসমার দোকান।


স্বামীহারা অসহায় আসমা শ্রীপুরের তরুণদের এ মহানুভবতায় মুগ্ধ হন। চোখের কোনে নেমে আসে তৃপ্তি ও আনন্দাশ্রু। সোহানসহ শ্রীপুরের তরুণেরা সারাদিনের ক্লান্তি মুছে অফুরন্ত তৃপ্তি আর আসমার আশীর্বাদ নিয়ে ফিরে আসেন বাড়ি।


প্রিয় পাঠক! গতকাল আমার ফেসবুক আইডিসহ 'ঢাকারিপোর্ট২৪.কম' এ বয়োবৃদ্ধ অসহায় আসমাকে নিয়ে যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছিল তা হুবহু তুলে ধরা হলোঃ


জীবন মানেই যুদ্ধ। যতদিন প্রাণ থাকবে ততদিন মানুষ জীবনের রঙিন ছবি আঁকবে, এটাই জীবনের ধর্ম। বেঁচে থাকার নির্মম প্রয়াসে চরম দারিদ্র-ক্লিষ্ট এক অসহায় মুখ গাজীপুরের আসমা।


পথ চলতে, জীবনের আশপাশে কত শত সংগ্রামী অসহায় মুখ প্রতিনিয়ত জীবনের ঘানি টেনে চলেছেন তার হিসেব সভ্য সমাজ রাখে না। কিন্তু এরাও আমাদের সমাজের অংশ।


গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা গ্রামের আসর উদ্দিনের স্ত্রী আসমা বেগম (৭০)। ৪০ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। নেই কোনো সন্তান। 


নিজের একাকিত্ব ঘোচাতে একটি মেয়েকে দত্তক নেন। বিয়েও দিয়েছিলেন । কিন্তু সেই সংসার টেকেনি। অভাবের সংসারে খেয়ে-পরে বাঁচতে রাস্তার মোড়ে বাঁশের মাচায় চিপস, চানাচুর আর বিস্কুট বিক্রি করেন আসমা বেগম। তা দিয়েই চলে মা ও মেয়ের বেঁচে থাকার নিত্যদিনের সংগ্রাম।


রাস্তার দু'ধারে, ফুটপথের এক-কোনে,রেলের বস্তিতে,খোলা আকাশের নিচে হাজারো ছিন্নমূল আসমারা প্রতিদিন বাঁচার স্বপ্ন দেখেন। বেঁচে থাকার সংগ্রামে যুদ্ধ করেন। 

কখনো তাদের সে স্বপ্ন সত্যি হয় না। বাস্তবতার অক্টোপাস এসে গ্রাস করে হাজারো আসমাদের নিত্য দিনের স্বপ্ন।কেড়ে নেয় রাতে আঁকা স্বপ্নের রঙিন ক্যানভাস।

 আসমা বেগম বলেন, ‘রিকশা লইয়া হাটে যাওনের সময় ঝাঁকুনিতে দুইবার পইড়া গেছিলাম। পইড়া গিয়া পায়ের মধ্যে লাগছে। এহন কষ্ট হইতাছে। দুইবার পইড়া গেলাম কিন্তু ক্যান যে মইরা গেলাম না।’ 


 আসমা বলেন, ‘এত দুঃখ-কষ্ট আর সহন যাইতাছে না। হের লাইগা কইতাছি, মইরা গেলেই ভালা অয়তো।’


আসমা বেগমের স্বামী আসর উদ্দিন কৃষক ছিলেন। তাঁকে নিয়ে ভালোই চলছিল সংসার। দাম্পত্যজীবনে তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। ৪০ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। সন্তান না থাকায় একা হয়ে পড়েন আসমা।


অভুক্ত পেট এবং অনিশ্চিত জীবনের বোঝা আর বইতে পারছেন না আসমা। অনেক সময় ঠিকমতো খেতেও পারেন না। স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িতে দুটি ঘর আছে। মেরামতের অভাবে সেগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। একটি ঘরে মা ও মেয়ে থাকেন, অন্যটিতে একটি বাছুর পালন করেন।


 ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃণা করেন আসমা। তাই অল্প কিছু টাকা দিয়ে কিছু চিপস, বিস্কুট, চানাচুর, কটকটি স্থানীয় বেনুপুর বাজার থেকে কিনে আনেন। বাড়ির এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার মোড়ে বিকেলে মানুষ আড্ডা দেয়। সেখানে একটি বাঁশের মাচায় সেগুলো বিক্রি করেন।


 কোনো দিন ১০০ আবার কোনো দিন ২০০ টাকা বিক্রি হয়। এমন দিনও আছে, যেদিন এক টাকাও বিক্রি হয় না। তাঁর দোকানে সর্বোচ্চ এক-দেড় হাজার টাকার মালামাল থাকে ।


আসমা বর্তমান সরকারের বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পেলেও তা দিয়ে দুটি পেট ভরে না সারা মাস।আশপাশের মানুষ মাঝেমধ্যে সহায়তার হাত বাড়ালেও জীবনের নিত্য প্রয়োজনে তা অতি তুচ্ছ ।


যে বয়সে নাতি নাতনী ও ছেলে মেয়েদের মধুর প্রিয় ছায়ায় নিরাপদ জীবন কাটানোর কথা, সেই বয়সে পেটের ক্ষুধা মেটানোর তাগিদে সারাদিন টোঙ দোকানে চিপস নিয়ে বসে থাকতে হয়। মৃত্যুকেই সাথী করে নিতে চান ৭০ বছরের আসমা বেগম।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআরএম/আরএএম