গাজীপুরের ব্যস্ত সড়কের ধারে কিংবা গলির মোড়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য দোকানে ভোজনরসিকদের জটলা লেগেই থাকে।
আবহাওয়া প্রতিকূল না হলে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিক্রি বন্ধ হয় না। বছরের ১১ম মাস ধরে এ চিত্র দেখা যায় গাজীপুরে। কিন্তু রমজান এলে পাল্টে যায় দৃশ্যপট।
রোজার দিনে বিক্রির সুযোগ থাকে না। ইফতারের পর ঝালমুড়ির ক্রেতা পাওয়া যায় না। ফলে মাসজুড়ে সম্ভব হয় না এ পেশায় টিকে থাকা। রমজানের পুরো সময় কী করেন ঝালমুড়িওয়ালারা। তার উত্তর খুঁজতে দু’জনের দ্বারস্থ হয় ঢাকারিপোর্ট-২৪।
তাদের একজন সালমান। তিনি মুড়ি বিক্রি করেন গাজীপুর চৌরাস্তায় এলাকায়। তার অন্য সময়ে দিনে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হয়। কিন্তু রোজায় সে সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তাই সালমান চলে যেতে হয় গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।
৫৫ বছর বয়সি এ ব্যক্তি জানান, ঝালমুড়ি বেঁচে মাসে গড়ে তার আয় হয় ১৫ হাজার টাকা। এ মাসে সেটা শূন্যে নেমে যাবে। রোজায় কীভাবে চলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিস্তি উঠায়ে চলি। রোজার পর কিস্তি টানি। বিভিন্ন সমিতিতে কিস্তি দেয়।
সালমান আরও জানান, ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়। সে টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হয় বাকি ১১ মাস ধরে। শ্রীপুরে আরেক ঝালমুড়ি বিক্রেতা মনির মিয়া অবস্থাও সালমানের মতো। রোজায় কী করবেন জানতে চাইলে তিনি ঢাকারিপোর্ট ২৪-কে বলেন, এক মাস পুরাই লস। চিন্তায় মাথা ঘুরে যাচ্ছে, কী করমু, না করমু।
সালমানের মতো মনিরও চলে যাবেন নিজ গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জে। সেখানে গিয়ে তাকেও ধার দেনা করে চলতে হবে একটা মাস। এই ঝালমুড়ি বিক্রেতা জানান, গত বছর লকডাউনের মধ্যে রোজার সময়ে ২৫ হাজার টাকা ঋণ করেছিলেন। সেটার সুদ এখনও টানছেন। দুই ঝালমুড়ি বিক্রেতাই জানান, এ পেশার লোকজনের কোনো সমিতি বা সংগঠন নেই। ফলে বিপদে ভরসার জায়গা পান না তারা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম