নভেম্বর মাস বৃষ্টির সময় না। তবুও বৃষ্টি হয়। সোজা কথায় বললে, এই বৃষ্টির কাঁধে ভর করে আসে শীত।
নভেম্বর মাসের বৃষ্টি নিয়ে আমেরিকার হার্ড রক ব্যান্ড গানস অ্যান্ড রোজেসের নিয়ে কালজয়ী একটি গান আছে। এই সময়টায় বৃষ্টি হলেই বেশিরভাগ মানুষ গানটি শোনেন। কিংবা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। মজার ব্যাপার হলো, গানটির সঙ্গে নভেম্বর মাসের বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই। ‘নভেম্বর রেইন’ শব্দ দুটি শুধুমাত্র একটি উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই গানের বিষয়বস্তু হলো—প্রেমের সম্পর্কে থাকা এক নারী ও পুরুষের জীবনের আগামী দিনের সময়গুলো কেমন যাবে—সেটার ব্যাপারে পুরুষের নানা রকম অনুভূতি কথা।
চলুন এবার গানটির সৃষ্টি নিয়ে কিছু অজানা তথ্য জেনে নেওয়া যাক। ‘নভেম্বর রেইন’ গানের জন্ম ১৯৯২ সালে। গানটি লিখেছিলেন ব্যান্ড সদস্য গায়ক এক্সেল রোজ। শুরুর দিকে ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট স্ল্যাস এবং অন্যান্য সদস্যরা নভেম্বর রেইনকে অ্যালবামে রাখতেই চাননি। পরে এক্সেল ব্যান্ড ছাড়ার হুমকি দিলে তারা গানটি রাখতে বাধ্য হন।
অ্যালবামে নভেম্বর রেইন সংযুক্ত করার আগে রোজ টানা আট দিন একা একটা ঘরের মধ্যে কাটিয়েছেন। আট দিন পর ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যরা দেখেন, রুমের এক কোণে রোজ উল্টো হয়ে ঘুমাচ্ছেন। ঘরভর্তি খালি পিৎজার বাক্স আর মলমূত্র।
গানটির মধ্যে প্রথমবার বলা হয়েছে—প্রেমিক সন্দেহ প্রকাশ করছে যে, যেহেতু কিছুই চিরস্থায়ী নয়; মানুষের মন বদলে যায়। তাই সে জানে না তার প্রেমিকার মনও বদলে যাবে কি না!
আরও বলা হয়েছে, জীবনের কঠিন সময়ে নিজেকে স্থির রাখা খুব কঠিন। তার প্রেমিকা সেরকম কঠিন সময় এলে স্থির থাকতে পারবে কি না—তা নিয়ে সে সংশয়ে রয়েছে।
এই চিন্তা উপমা করে কঠিন সময়টাকে বলা হয়েছে ‘নভেম্বর রেইন’ আর স্থির থাকার ব্যাপারটা ‘হোল্ড আ ক্যান্ডেল’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়বার বলা হয়েছে, এখানে প্রেমিক প্রেমিকাকে বলছে, তাকে সত্যিকারে ভালোবাসতে চাইলে যেন অতীতের ভুলগুলো আবার না করে। না হলে কঠিন পরিস্থিতি এলে তাদের একসাথে পথচলা আর হবে না, সরে যাবে প্রেমিক। এখানেও কঠিন সময়ের উপমা নভেম্বর রেইন।
তৃতীয়বার বলা হয়েছে, এখানে প্রেমিকের জীবনে আসা অন্ধকার সময়ের ব্যাপারে প্রেমিকাকে চিন্তিত না হতে বলে তাকে আশা দিয়ে বলা হয়েছে, ঠিক সময়েই তারা কোনো একটা পথ খুঁজে নেবে।
আর শেষে বলছে, কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কঠিন সময়ও না। এবারো কঠিন সময়ের উপমা নভেম্বর রেইন।
নভেম্বর রেইন গানটির ভিডিও নির্মিত হয়েছে ডেল জেমসের ছোট গল্প ‘উইদাউট ইউ’কে ভিত্তি করে। গানটির ভিডিও প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এবং বিশ্বের সবচেয়ে ব্যরবহুল মিউজিক এটি। গানচিত্রটির দৈর্ঘ্য নয় মিনিট।
এর প্রধান আকর্ষন হলো অসাধারণ চিত্রায়ণ এবং এর গল্পকথন। এর জেরে গানটি আমেরিকা ভিত্তিক ক্যাবল চ্যানেল এমটিভির মিউজিক অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। ভিডিওতে এক্সেল রোজের তৎকালীন প্রেমিকা স্টিফেনী সেম্যুর অভিনয় করেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসপি/আরএএম