আফ্রিকার সংগীতের এক বিপ্লবী জাগরণের নাম, ‘অ্যামাপিয়ানো’। সাউথ আফ্রিকার জুলু ভাষায়, অ্যামাপিয়ানো বলতে আক্ষরিক অর্থে পিয়ানোকেই বোঝানো হয়। গত দশকে ‘আফ্রোবিট’ আফ্রিকার মূল সাউন্ডট্র্যাক হলেও এখন আফ্রিকাজুড়ে রাজত্ব করছে আমাপিয়ানো। স্বতন্ত্র লগ ড্রামসহ ডিপ হাউস, কোয়াইটো, জ্যাজ এবং লাউঞ্জ সংগীতের মিশ্রণ দক্ষিণ আফ্রিকার এই আবিষ্কারটি।
‘লগ ড্রাম’ মূলত সব কিছু পরিবর্তন করে দেয়। এটিই অ্যামাপিয়ানোর মূল শক্তি।
অ্যামাপিয়ানো হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণদের শব্দ। এটি ড্যান্স ফ্লোরে মাতিয়ে রাখে সকলকে। দিনে দিনে অ্যামাপিয়ানো এখন আফ্রিকার সংগীত জগতের এক নবজাগরণ হয়ে উঠেছে। যখন আপনি এটি শুনবেন আপনি বুঝে যাবেন যে অ্যামাপিয়ানো শুনছেন।
এই জাগরণের সবচেয়ে বড় ভূমিকা যার, সে সোয়েতো অঞ্চলের ডালিওঙ্গা। ডালিওঙ্গা দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিখ্যাত অ্যামাপিয়ানো গায়ক। ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় নামগুলোর সাথে তার সহযোগিতার জন্য তিনি ২০১৯ সালে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। তার জন্মস্থান ‘সোয়েত’ তাকে পরিণত করেছে আজ বিখ্যাত এক গায়কে। ছোটবেলা থেকেই ডালিওঙ্গা তার স্কুলের গায়ক দলে গান গেয়ে নিজের গানের যাত্রা শুরু করেন। এখন তিনি অ্যামাপিয়ানোর শীর্ষ কণ্ঠশিল্পী।
অ্যামাপিয়ানো সম্পর্কে ডালিওঙ্গা বলেন, ‘যখন আমরা অ্যামাপিয়ানো সম্পর্কে কথা বলি তখন আমরা শুধু গানের কথা বলি না। এটা এখন একটি জীবনধারা। আমরা জানি যে সোমবার থেকে বুধবার, এই তিন দিন আমরা বিশ্রাম করি। আর বাকি চার দিন আমাদের অন্যতম সঙ্গী হয়ে ওঠে অ্যামাপিয়ানো, যা আমাদের মাতিয়ে রাখে। ’
বিখ্যাত ডিজে ও প্রযোজক ডিবিএন গোগো বলেন, নাচের চ্যালেঞ্জগুলো অ্যামাপিয়ানোর কাছে একটি ভিন্ন জীবন রূপের মতো। সেগুলোই সাহায্য করে গানকে এক নতুন মাত্রায় রূপ নিতে। মজার বিষয় হলো, কেউ আপনাকে কিছু করতে দেখছে বা কিছু করার একটি ভিডিও নিচ্ছে এবং পরের দিনই সেটা গোটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে। যেহেতু অ্যামাপিয়ানো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাচ্ছে, নারী উদ্ভাবকরা এখন এই সাউন্ডকে নতুন উচ্চতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আপনি পৃথিবীর যেখানেই যান, মিয়ামী বা ইবিজায়, পুরুষরাই নাচের গান লেখে, ঘরের গান লেখে। এটা নারীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ জন্য যে নৃত্য সংগীত দৃশ্যে আরো বেশি বেশি প্রতিনিধিত্ব করা। কারণ আমি মনে করি বেশির ভাগ প্রচার এবং জনপ্রিয়তা আমাদের নারীদের মাধ্যমেই এসেছে।’
নৃত্য বা নাচ মূলত অ্যামাপিয়ানোর মূল চালিকাশক্তি এবং কামো ফেলা হলেন সেই নাচের ফ্লোরের রানি। কামো ফেলা অ্যামাপিয়ানো সম্পর্কে বলেছেন, ‘অ্যামাপিয়ানো হচ্ছে সেই সহজ নাচ কৌশল, যা প্রতিটি মানুষইভাবে যে সে করতে পারবে। কিন্তু আমাদের সেই পয়েন্টে নজর দেওয়া উচিত যেখানে মানুষ নৃত্য কৌশলগুলো শিখতে চায় তবে পারে না এবং এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে।’
টিকটকে অ্যামাপিয়ানোর ভিডিওগুলো কোটি কোটি ভিউ হয়ে গেছে। লক্ষ-কোটি নতুন দর্শক-শ্রোতা মেতেছে এই নতুন সুর ও নৃত্যের জাগরণে। যত দিন যাচ্ছে, এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।
একটি বিষয় নিশ্চিত, যখন আপনি অ্যামাপিয়ানো শুনবেন, আপনিও নড়াচড়া করবেন, নাচবেন। যেমনটা নেচে-গেয়ে নিজেদের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত রেখেছে আফ্রিকার মানুষ। সেই সাথে নতুন সুর ও নাচের এই মিশ্র বিপ্লবের মিছিলে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে পৃথিবীর কোটি কোটি দর্শক-শ্রোতা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএ/আরএএম