চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিককে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জরায়ুর টিউমারের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রেখে চিকিৎসক চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন ব্যখ্যা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মুসলিমা খাতুন (৪০) দর্শনা থানার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে জরায়ুর টিউমারজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, উন্নত চিকিৎসার আশায় গত ৫ জুন শুক্রবার সকালে তাকে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারের নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে দুপুরে অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। কিন্তু কিছু সময় পর হঠাৎ অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। তাদের দাবি, অপারেশন সম্পন্ন না করেই চিকিৎসক ক্লিনিক ত্যাগ করেন এবং পরে রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে রোগীর জীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
রোগীর পরিবারের এক সদস্য বলেন, অপারেশনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম চিকিৎসা শেষ হবে। কিন্তু হঠাৎ বলা হলো অপারেশন করা সম্ভব নয়। তখন রোগীর অবস্থা নিয়ে আমরা ভয় পেয়ে যাই।
পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে পরিবার দ্রুত মুসলিমা খাতুনকে চুয়াডাঙ্গার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে নতুন করে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, যদি রোগীকে অজ্ঞান করানো বা অস্ত্রোপচারে জটিলতা থেকেই থাকে, তাহলে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই সেই ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর স্বজনদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
তবে অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী আক্তার ও হায়দার আলী। তারা বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমাদের ক্লিনিকে ঘটেনি। অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রিচার্ড সরেন বলেন, রোগীকে অজ্ঞান করতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে অপারেশন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোগীকে ভর্তি রাখা হয়েছিল। পরে স্বজনরা তাকে অন্যত্র নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
যদিও রোগীর পরিবার এখনো কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবুও ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে অস্ত্রোপচার ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মান নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম