চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা–কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা জুয়েলার্স এর মালিক হাফিজুর রহমান ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত হাফিজুরকে প্রথমে যশোরে এবং পরে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়। তার ভাই বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে। অবস্থাও সংকটজনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের ওপর সুটিয়া গ্রামে হামলার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই শনিবার সন্ধ্যায় সুটিয়া গ্রামের কামিল মাদ্রাসার সামনে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়। এসময় ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর মেডিকেলে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন—বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪০), জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম (৫০), মাহফুজ (২৫), হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন (৬০)।
জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান অভিযোগ করেন, জামায়াত নির্বাচনের পর থেকেই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার শুরু।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান দাবি করেন, নিরীহ জামায়াত কর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে বিএনপি কর্মীরা আমাদের চারজনকে রক্তাক্ত জখম করে।
জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, মেহেদী হাসানকে মারধরের রেশ ধরেই আজকের সংঘর্ষ। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
এদিকে আজ সকাল সাড়ে ১০ টায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় নেতারা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম