স্বল্প সময়ের অধিক লাভজনক হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিটরুট চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বাজারে রয়েছে এর বেশ চাহিদা। রপ্তানির সুযোগ থাকায় এটি সম্ভবনাময় ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নানা পুষ্টি ও ঔষুধি গুণ সম্পন্ন হওয়ার কারণে বিটরুটকে সুপার ফুড হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। শীতকালে বেশি উৎপাদিত হলেও বর্তমানে এটি সারা বছরই চাষ হচ্ছে। এটি কাঁচা ও রান্না করে দুই ভাবে খাওয়া যায়। অনেকেই জুস ও সালাদ বানিয়ে খেতে পছন্দ করে।
জীবননগর উপজেলায় বিটরুট চাষে কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে চাষিরা বেড পদ্ধতিতে বিটরুট চাষ করেছে। সবুজ পাতার মাঝে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে গোলাকৃতির লাল রংয়ের বিটরুট।
বাড়তি আয়ের সুবিধা নিতে অনেক চাষি ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টা, কলা ইত্যাদি ফসলের মধ্যে সাথি ফসল হিসেবে বিটরুট চাষ করেছেন।
জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের বিটরুট চাষি জুনাব আলী বলেন, এক বিঘা জমিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে বিটরুট চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে বিঘায় ৮০-১০০ মন বিটরুট পাওয়া যায়। আর কিছুদিন পরে এটি বাজারজাত করা হবে।
জিনারুল মল্লিক নামের আরেক চাষি বলেন, ড্রাগনের মধ্যে প্রথমবারের মত সাথি ফসল হিসেবে বিটরুট চাষ করেছি। এখন বাজারে গাজর, টমেটো ও মুলার সরবরাহ বেশি থাকায় বিটরুটের দাম কিছুটা কম আছে। ১ মাস পরে বিটরুট বাজারজাত করা হবে। তখন ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিটরুট দ্রুত হজমে সাহায্য করে। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে ও রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এটি ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও বিটরুটে নানা পুষ্টি ও ঔষধি গুণ রয়েছে।
জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগরের মাটি বিটরুট চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। জীবননগর উপজেলায় চলতি বছরে ১০ হেক্টর জমিতে বিটরুট চাষ হয়েছে। এটি অনেক সম্ভাবনাময় একটি ফসল।বিটরুট গাছে রোগবালাই কম হয় ও অল্পসময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার কারনে এ উপজেলায় বিটরুট চাষ কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেক চাষি বিটরুট চাষ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জীবননগর কৃষি অফিস থেকে বিটরুট চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম