বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

৬১ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে চালু হলো দর্শনা কেরু চিনিকল


সালাউদ্দীন কাজল, জীবননগর
DhakaReport24.com || 2023-12-16 11:11:15
৬১ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে চালু হলো দর্শনা কেরু চিনিকল

৬১ কোটি ৫ লাখ টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে ২০২৩-২৪ আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করলো দেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। 

শুক্রবার বিকেল ৪ টার সময় চিনিকলের কেইন কেরিয়ারে আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান শেখ শোয়েবুল আলম। মাড়াই মৌসুম সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। সবকিছু ঠিকঠাক চললে চিনিতে মোটা অঙ্কের লোকসান কমিয়ে আনতে পারবে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি এমনটিই আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। চিনি উৎপাদন কারখানা, ডিস্টিলারি, জৈব সার কারখানা ও ওষুধ কারাখানার সমন্বয়ে গঠিত বৃহৎ এ শিল্প কমপ্লেক্সে চিনি কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহতভাবে লোকসান গুনে আসছিল। সরকারিভাবে চিনির মূল্য বৃদ্ধির কারণে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে চিনি কারখানাটি। এ ছাড়াও প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে চিনিকলটিতে আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এতে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে।প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, ৬৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবারের মাড়াই মৌসুমে। মোট ৫৫ মাড়াই দিবসের লক্ষ্যমাত্রায় চিনি আহরনের গড় হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। 

এ মৌসুমে ৫৩ মাড়াই দিবসে প্রতিদিন গড়ে ১১শ' ৫০ টন আখ মাড়াই করবে চিনিকলটি। ৬৫ হাজার ৫০০ টন আখ মাড়াই করে শতকরা ৬ দশমিক ২ ভাগ চিনি আহরণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৮শ' ১০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর কেরু চিনিকল জোনে দণ্ডায়মান আখ রয়েছে ৩ হাজার ৮০২ একর জমিতে। এর মধ্যে চিনিকলের নিজস্ব জমিতে আখ রয়েছে ১ হাজার ১৫৩ একর জমিতে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশন চেয়ারম্যান শেখ শোয়েবুল আলম। খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশনের সচিব চৌধুরী রুহুল আমিন কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিনি ও খাদ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (উৎপাদন ও প্রকৌশল) আতাউর রহমান খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড.কিসিঞ্জার চাকমা, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, কেরু এন্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারেফ হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকসানা মিতা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাসসহ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কেরু চিনিকলের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক ও কর্মচারী ফেডারেশনের নেতাসহ আখচাষি ও সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রঙ্গত: ১৮০৫ সালে জন ম্যাকসওয়েল নামক এক ইংরেজ ভারতের কানপুরে জাগমু নামক স্থানে তখনকার একমাত্র ফরেন লিকার কারখানা চালু করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে এর নাম, স্থান, মালিকানা, উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হতে থাকে। ১৮৪৭ সালে রবার্ট রাসেল কেরু অংশীদারির ভিত্তিতে যুক্ত হন এবং কালক্রমে তা কিনে নেন। তিনি উত্তর ভারতে অবস্থানকালে ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লবের সময় কারখানাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুনর্নির্মাণ করে যৌথ মালিকানায় গঠন করা হয় ‘কেরু এ্যান্ড কোম্পানী লি. নামে। পরে আসানসোল ও কাটনীতে এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৮ সালে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১০০০ টন আখ মাড়াই ও ১৮ হাজার লিটার স্পিরিট তৈরির লক্ষ্যে আরও একটি শাখা দর্শনায় স্থাপন করা হয়। পাকিস্তান আমলে আরেক দফা মালিকানা বদলের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম