মানুষের মৌলিক অধিকার মধ্যে চিকিৎসা হলো অন্যতম। কিন্তু সেই চিকিৎসার নামেই চলছে রমরমা ব্যবসা।
সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ওষুধ সরবরাহ করে যাচ্ছেন হাসপাতালগুলোতে যাতে গরীব দুঃখী মানুষের চিকিৎসার থেকে বঞ্চিত না হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ওষুধ কোম্পানিগুলো কোন এক সংস্থার নামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর আয়োজন করে আড়ালের রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। গরীব ও অসহায় ব্যক্তি ডাক্তার দেখাতে গেলে কারণে-অকারণে অতিরিক্ত ওষুধ লিখতে বাধ্য হচ্ছে ডাক্তার।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানিগুলো প্রথমে গ্রামের কোন সংস্থা বা ক্লিনিক এর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালাতে থাকে কোম্পানির নাম গোপন রেখে। সময় বুঝে যেসব ডাক্তারের কোন রোগী নাই তারা এসব ক্যাম্পে চুক্তিবদ্ধভাবে এসে কার্যক্রম চালায়।
পরবর্তী সাতদিন বা ১০ দিন পরে ডাক্তারের চেম্বারে যেয়ে দেখা করতে বলে তখন ফি ধার্য করে। যেসব কোম্পানি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে আড়ালে তাদের ওষুধের ব্যবসা লুকিয়ে থাকে। অল্প কিছু নিম্নমানের ওষুধ ফ্রি দিয়ে নিজের কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রিপশন করে নেয়। সে সব প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকে দুই থেকে তিন মাস চলবে। এসব ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে ডাক্তারের সামনে ওষুধ কোম্পানি ওষুধের লিস্ট ধরিয়ে দেয়। এতে ডাক্তার অন্য কোন ওষুধ লিখতে চাইলেও সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে পারে না।
অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো, কমিউনিটি সেন্টার, সাব সেন্টারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্রি ঔষধ সরবরাহ করে যাচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার হাদী জিয়া উদ্দিন আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের মুঠো ফোনে জানান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোন তথ্য বা অনুমতি নেয়নি। বর্তমানে সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ হসপিটালে সরবরাহ করে যাচ্ছে। জনগণ ইচ্ছা করলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবে। তিনি গরিব ও অসহায় রোগীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএইচ/আরএএম