যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা বাজারে বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুলের বাজার। কুল ও আম মৌসুমে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার সব আড়তগুলো। প্রতিদিন এখান থেকে ছোট বড় ১৫ থেকে ২০ ট্রাক কুল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে রপ্তানি হচ্ছে।
যশোর- সাতক্ষীরা দুজেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও কলারোয়া জিরো পয়েন্ট বেলতলা নামক স্থানে এ বাজারটি অবস্থিত। এবছর বাজারে থাইআপেল কুল ১২০/১৩০ টাকা, বলসুন্দরী কুল ১০০/১২০ টাকা, নারকেল কুল ৮০/৯০ টাকা, চায়না কুল ১২০ এবং টককুল ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কুলচাষি মোশারাফ হোসেন জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে কুলচাষ করছেন। এবছরও তিনি ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। গত বছরও তিনি ৪ বিঘা কুল চাষ করেছিলেন। গত বছরের থেকে এ বছর তার অনেক ফুল হয়েছে এবং দামও ভলো পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, যদি এভাবে শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন তাহলে এ বছর তিনি অনেক লাভবান হবেন।
ঢাকা থেকে কুল কিনতে আসা বেপারী মাহাতাব, দেলোয়ার ও বশির জানান, তারা দীর্ঘদিন কুল, আম, তরমুজসহ সিজেনারি বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করেন। সেই কারণে প্রতিবছর বেলতলা ফল মুকামে আসেন। এ বছর কুলের দাম অনেক বেশি, যার কারণে লাভের পরিমাণ কম, তারপরও আমরা যেমন বেশি দামে কুল কিনছি, ঠিক তেমনই বেশি দামে বিক্রি করছি। এবছর বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কুল কিনে ভালো দামে বিক্রি করতে পাচ্ছি বলে তারা জানান।
সিলেট থেকে আসা শহিদ বেপারী জানান, এই অঞ্চলের ফলের স্বাদ ভালো, ক্রেতারাও বেশি বেশি খায়। যার কারণে প্রতিবছর এই মুকাম থেকে কুলসহ বিভিন্ন ফল কিনতে আসি। ব্যবসায় লস-লাভ দুটোই হয়।
বেলতলা বাজারের স্থানীয় আড়তদার আবুল কালাম, রফিক শাহারুল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কুলের ফলন অনেক বেশি। সেই সঙ্গে কুলের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় আমাদের ব্যবসা ভালো এবং চাষিরাও অনেক খুশি। আমাদের এ বাজারে চাষিরা নিঃসন্দেহে সঠিক ওজনে এবং সঠিক মূল্যে কুল বিক্রি করতে পারেন। তাই চাষিরা এ বাজারে ফুল বিক্রি করতে আসেন। সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কুল কেনাবেচা চলে বলে জানান আড়তদাররা।
বেলতলা বাজার কমিটির সহসভাপতি এরশাদ গাজী জানান, চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে সেজন্য বাজারে সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক কুল চাষ হয়েছে। এভাবে যদি আরও ২-১ বছর যায় আমি আশাবাদী বেলতলা বাজার দেশের দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বিখ্যাত ফল বাজার হিসেবে পরিচিতি অর্জন করবে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে ১৪৮ হেক্টর জমিতে ৫১০ জনের মত চাষি ফুল চাষ করেছে। পাশাপাশি আমি বেলতলা কুলবাজার পরিদর্শন করেছি, থাইআপেল, বলসুন্দরী, চায়না, টক মিষ্টি কুলগুলোই এবছর চাষিরা বেশি চাষ করেছেন এবং তারা আনেক লাভবানও হয়েছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অন্য
কৃষকরা দিনে দিনে কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আগামী বছরও চাষিরা এই লাভজনক ফল বেশি বেশি চাষ করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম