ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আবাসিক হলে এক নবীন ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চললেও বিষয়টি নিয়ে বেশ চুপচাপ সময় পার করছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সংগঠনগুলো। তাদের কোনো প্রকার প্রতিবাদ বা বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন মতাদর্শের অন্তত সাতটি শিক্ষক সংগঠন ক্যাম্পাসে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক সমিতি সকল শিক্ষকের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া প্রগতিশীল ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট, জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের জিয়া পরিষদ ও সাদা দল এবং জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের গ্রীন ফোরাম ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে।
যেখানে নির্যাতিত ছাত্রীর মুখে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ এই নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নির্যাতনকারীদের শাস্তি দাবি করছে, এছাড়া তাদের শাস্তির দাবি জানিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোসহ দেশের বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এতগুলো শিক্ষক সংগঠনের মাঝে একটি সংগঠনও কোনো ধরনের প্রতিবাদ ও বিবৃতি জানায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকমহল।
অন্যদিকে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসব সক্রিয় পাঁচটি ছাত্র সংগঠন তাদের দলীয় প্যাডে বিবৃতি দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেছে। এছাড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মহিলা পরিষদ, মানবাধিকার কমিশন, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এ ঘটনায় শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতির অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তাদের দাবি, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলোর পরিবর্তে তাদের গ্রুপিং ও রাজনীতির বিষয়ে বেশি মনোযোগী। শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসতো। এবং বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ানোর প্রয়োজন পড়ত না।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/হাদি/আরএএম