মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

সহপাঠীদের চাঞ্চল্যকর তথ্যে ফেঁসে যাচ্ছেন বিল গেটস কন্যা!


DhakaReport24.com || 2026-08-16
সহপাঠীদের চাঞ্চল্যকর তথ্যে ফেঁসে যাচ্ছেন বিল গেটস কন্যা!

ধনকুবের বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক সহপাঠীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফিবি গেটস কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো ক্লাস করেননি। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ পরিচালনার ক্ষেত্রে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফিবি গেটস স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে হিউম্যান বায়োলজি বিষয়ে স্নাতক পড়াশোনা করেছেন। ওই সহপাঠীর ভাষ্য, তার ডিগ্রির জন্য অ্যাডভান্সড কোডিং বা কম্পিউটার সায়েন্সের কোর্স করা বাধ্যতামূলক ছিল না। তাই তিনি এ ধরনের কোনো ক্লাস করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সহপাঠী সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সকে জানান, ফিবিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের একটি ক্লাসও করতে হয়নি। তবে কম্পিউটার সায়েন্সের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে ধারণা পেতে তিনি কিছু ক্লাস করে থাকতে পারেন। সেসব ক্লাস হয়ে থাকলেও তা মূলত জীববিজ্ঞান গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ফিবি গেটস বর্তমানে নিজের শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ নিয়ে কাজ করছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবসা পরিচালনায় তার কোডিং ও কম্পিউটার সায়েন্সের অভিজ্ঞতা কতটা রয়েছে, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে ফিবি গেটস ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল পেজ সিক্স। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রটি আরও ব্যাখ্যা করে, ফিবি চাইলেই হুট করে অ্যাডভান্সড কোডিং ক্লাসে যোগ দিতে পারতেন না। এর জন্য তাকে আগে কিছু আবশ্যিক প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন করতে হতো। নিজের নিয়মিত পড়াশোনার রুটিনের সঙ্গে সেগুলো মেলানো তার জন্য বেশ কঠিনই ছিল, বিশেষ করে যেহেতু তিনি এক বছর আগেই গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।


তবে ২৩ বছর বয়সী ফিবি ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (ফলিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি ক্লাস করেছিলেন। এই ক্লাসটিই মূলত তার স্টার্টআপ ‘ফিয়া’র ধারণা তৈরিতে সাহায্য করেছিল। স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট ২৫ বছর বয়সী সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন।


স্টার্টআপটিতে ‘কুকি-স্টাফিং’-এর অভিযোগ ওঠার পর চলতি সপ্তাহে তরুণ এই উদ্যোক্তারা বড়সড় এক প্রযুক্তি কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। তবে এখন জানা যাচ্ছে, টেক দুনিয়ার এই ‘নেপো বেবি’ (স্বজনপ্রীতির সুবিধাপ্রাপ্ত) ও তার স্টার্টআপটি খোদ তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই হাসির খোরাক ছিল।

সূত্র অনুযায়ী, ফিবির স্ট্যানফোর্ডের সহপাঠীরা তাকে কোনো দক্ষ কোডার হিসেবে চিনতেন না। এমনকি ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা যখন ঘোষণা করা হয়, তখন কম্পিউটার সায়েন্সের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাকি ‘তাদের মুখের ওপরই হেসে দিয়েছিলেন’ বলে জানা যায়। কিয়ানির একজন প্রতিনিধিও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি স্ট্যানফোর্ডে কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো প্রথাগত ক্লাস করেননি। সূত্রটি কটাক্ষ করে বলেছে, কিয়ানি তার ‘সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি’ ডিগ্রিতে যেসব কোর্স করেছেন, তা থেকে ‘কুকি জিনিসটা আসলে কী, তা-ই তার জানার কথা নয়’।

ফাঁস হওয়া কিছু স্ল্যাক বার্তায় দেখা গেছে, কিয়ানি তার প্রকৌশলীদের সঙ্গে ‘ফিয়া’র বিতর্কিত ‘কুকি স্টাফিং’ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং কুকিগুলো ‘ড্রপ’ করে যেতে (ফেলে রাখতে) নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্ল্যাকে এক প্রকৌশলীকে তিনি বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, ‘এই কুকিগুলো ক্রমাগত ড্রপ করে যাওয়ার জন্য আমরা যা যা করতে পারব, তা দারুণ হবে।’

সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিয়ার ‘অটো ড্রপ’ ফিচারটির কারণে কোম্পানিটি সম্ভবত এমন সব কেনাকাটার ওপরও কমিশন সংগ্রহ করতে পেরেছে, যেগুলোতে তারা বাস্তবে কোনো ক্রেতাকে পাঠায়নি।

ফিয়া কর্তৃপক্ষ প্রথমে এটিকে একটি ‘সফটওয়্যার বাগ’ বা ত্রুটি বলে দাবি করেছিল। তবে কিয়ানির ফাঁস হওয়া স্ল্যাক বার্তাসহ নতুন প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ফিচারটি কয়েক মাস ধরেই চালু ছিল।

‘কুকি স্টাফিং’ হলো এমন একটি প্রতারণামূলক পদ্ধতি, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো একটি কোম্পানি একজন ক্রেতাকে কোনো রিটেইলার বা বিক্রেতার কাছে পাঠিয়েছে, বাস্তবে হয়তো তারা তা করেনি—আর এর মাধ্যমে কোম্পানিটি অন্যায্যভাবে কমিশন হাতিয়ে নিতে পারে)।

অবশ্য কোম্পানিটি এই অনুসন্ধানের কিছু অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা জানিয়েছে, এই ফিচারটি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রিগুলো তারা পর্যালোচনা করে দেখছে।

ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, জুলাই মাসে ফিয়া ওই ফিচারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর কোম্পানিটির গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে এক ধাক্কায় কমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে দ্য পোস্ট জানিয়েছে, ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এক বিলাসবহুল পেন্টহাউসে বসবাসকারী ফিবি ও তার সঙ্গী কিয়ানির ‘কুকি স্টাফিং’ অভিযোগের কারণে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মতো কড়া শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা হতে পারে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও গুনতে হতে পারে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম