রাজশাহীর বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেন মন্ডলকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিকরা ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে বিকালে, আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
এদিকে বাগমারা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এটিকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দাবি করে তাকে অব্যাহতি প্রদানেরও দাবী জানানো হয়।
জানাগেছে, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের শালমারা বিগোপাড়া এলাকার ইটভাটার মালিক জনৈক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে রাজশাহীর আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক আলতাফ হোসেন মন্ডল দিনে দুপুরে ওই ইট ভাটার ম্যানেজারের গলায় চাকুধরে হত্যার হুমকি প্রদান করে। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইট ভাটার ম্যানেজার ২০ হাজার টাকা চাঁদা দেয়। দিনের বেলায় জনসম্মুখে এমন মিথ্যা চাঁদা দাবীর ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে। ওই মামলায় আগে সাংবাদিক আলতাফ হোসেন মন্ডলের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি আলতাফ হোসেন মন্ডলের নজরে আসলে ওই সকল ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন তিনি।
এদিকে ওই মামলা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পাল্টা আলতাফ হোসেন মন্ডলের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। নির্দিষ্ট সময় আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। ওই ঘটনায় পুলিশ আলতাফ হোসেন মন্ডলকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে মন্ডলের দায়েরকৃত মামলা আদালতে বিচারাধিন রয়েছে। এদিকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোনা জানা হওয়ার। পর জামিন নিতে গেলে ওই মামলার নথি খুঁজে পাননি বিচারক। পরবর্তীতে আবারো জামিন আবেদন করেন আলতাফ হোসেন মন্ডল। গ্রেপ্তারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী হওয়ার পরও ওই দিনেও তাকে জেল হাজতে নেননি আদালত বলে জানাগেছে। ওই মামলায় তৃতীয় বারের মতো জামিনের আবেদন প্রস্তুতি নেন সাংবাদিক আলতাফ হোসেন মন্ডল। ওই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
এদিকে সাংবাদিক আলতাফ হোসেন মন্ডলের পরিবারের দাবি একটি মহল ইটভাটার মালিককে দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করিয়েছে। মহলটির রোষানলের শিকার সাংবাদিক আলতাফ হোসেন মন্ডল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদালতের মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪ডটকম/সাকা/আরএএম