রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর খামারপাড়া গ্রামের ডলি বেগম, যার দিনকাল চলতো খুবই দারিদ্র্যতার সাথে। তিনবেলা খাবার জোটানোর পর ওষুধ কেনার মতোও টাকা তার কাছে থাকতো না। তিনি ছিলেন শারিরীক ভাবেও প্রতিবন্ধী।
এর মধ্যে ডলি বেগমের সঙ্গে তিন নারীর পরিচয় হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁরা ‘তথ্য আপা’ নামে পরিচিত। পরে তথ্য আপাদের সহযোগিতায় ডলি বেগম স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতাল সমাজসেবার মাধ্যমে বিনা মূল্যে ওষুধও পাচ্ছেন তিনি।
ডলি বেগমের মতো বাগমারা উপজেলার অনেক নারী তথ্য আপাদের বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নের একটি প্রকল্প হলো তথ্য আপা। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে তথ্য আপার তিন নারী ছুটে বেড়াচ্ছেন বাগমারার প্রত্যন্ত এলাকায়। তথ্য আপার তিন নারী হলেন সাবিনা খাতুন, আত্তারুন নাসরিন ও রেশমা সুলতানা।
সম্প্রতি উপজেলার পরিষদে তথ্য আপাদের দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, এক ছাত্রী চাকরির আবেদনের জন্য তাঁদের কাছে এসেছেন। ওই ছাত্রী বলেন, তাঁর বাড়িতে ইন্টারনেট-সুবিধা নেই। তাই অনলাইনে চাকরির আবেদনের জন্য তিনি এখানে এসেছেন। পরে তথ্য আপারা বিনা খরচে ওই ছাত্রীর আবেদনটি করে দিয়েছেন।
তথ্য আপা সাবিনা খাতুন বলেন, উপজেলা পরিষদের দপ্তরে বসে মানুষকে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা নিয়মিত গ্রামে গ্রামে ঘুরে উঠান বৈঠক করেন। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাঁরা মানুষকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের খবর, প্রাথমিক সেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের পরামর্শে গ্রামের অনেক বেকার নারী স্বনির্ভর ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার কলেজছাত্রী শাহানাজ আক্তার তথ্য আপাদের পরামর্শে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছেন। বছরখানেক আগেও শাহনাজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময়ই দুশ্চিন্তা করতেন। পরে তথ্য আপাদের পরামর্শে শাহানাজ সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন বাড়িতে বসে মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক বানিয়ে আয় করছেন তিনি।
উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন ঢাকা রিপোর্ট২৪ কে বলেন, তথ্য আপাদের মাধ্যমে প্রতি মাসে উঠান বৈঠক করে ৭০০ থেকে ৮০০ নারীকে বিভিন্ন রকম সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে এ প্রকল্প চালুর পর থেকে তথ্য আপাদের কাছ থেকে অন্তত ২২ হাজার নারী সেবা নিয়েছেন। সরকারি প্রকল্পের খবর, তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ছাড়াও বিনা মূল্যে ডায়াবেটিকস পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষাসহ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার মাক্বামাম মাহমুদা ঢাকা রিপোর্ট২৪ কে বলেন, তথ্য আপার তিন নারীর কর্মকাণ্ড বাগমারার অনেকের নজরে এসেছে। তথ্য আপারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে নারীদের সেবা দিচ্ছেন। তাঁর পরিচিত অনেকেই তথ্য আপাদের মাধ্যমে সেবা নিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।