রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামবাসীর বাঁধা উপেক্ষা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা রাস্তা নষ্ট এবং পরিবেশ দূষণ করে মাটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ভূমিদস্যু হান্নানের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে দিবালোকে পুকুরের কাদামাটি বিক্রি করে পরিবেশ দূষণ এবং পাকা রাস্তা নষ্ট করা হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে মোল্লাপাড়া গ্রামবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
হান্নানের ভাই রিপন নামের এক ব্যক্তি গাড়ির লোক দেখাশোনা করার পরিচয় দিয়ে বলেন, আমার বড় ভাই হান্নান ও নয়ন টাকা-পয়সা দিয়ে সকলকে ম্যানেজ করেছে।
মঙ্গলবার ( ৫ এপ্রিল) দুপুরে আলামিন নামের এক অটোচালক সড়কে কাদামাটি ফেলার প্রতিবাদ করলে ট্রাক্টরের মালিক তাকে মারধর করে। এছাড়াও গ্রামের কেউ প্রতিবাদ করলে হান্নান তাদেরকেও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
গ্রামবাসী জানায়, মোল্লাপাড়ার ইটভাটা ব্যাবসায়ী হান্নান প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে পুকুর পুনঃখনন করছে। প্রতি গাড়ি মাটি ৮০০ টাকা দামে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে। অবৈধ ট্রাক্টর করে এসব মাটি বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করতে গিয়ে কদামাটিতে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন-পুরাতন পুকুর খনন বা পুনঃখনন করতে হলে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া কোনো অবস্থাতেই মাটি বাইরে বিক্রি করা যাবে না এমন বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তারা এসব নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই মাটি বাণিজ্য করছে।
স্থানীয় সাবেক এক মেম্বার বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেভাবে রাস্তা নষ্ট ও পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে এসব দেখার কেউ নাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুর মালিক হান্নান বলেন, আমার মাটি আমি বিক্রি করবো এতে প্রশাসনের অনুমতি নেয়ার কি আছে। এছাড়া মাটি নিতে গেলে রাস্তায় কিছু তো পড়বেই সেটা আমি লেবার দিয়ে সরিয়ে ফেলবো।
এ বিষয়ে পুকুর খননকারীদের নিকট জানতে চাইলে হান্নান ও নয়ন বলেন, আমরা সকল প্রশাসন ম্যানেজ করে এ কাজ করছি। অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে না বলে দাম্ভিকতার সাথে এ কথা বলেন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম