বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : রাজশাহী

পানির জন্য ২ কৃষকের আত্মহত্যা, তদন্তের নেই গুরুত্ব


DhakaReport24.com || 2022-03-27 00:41:00
পানির জন্য ২ কৃষকের আত্মহত্যা, তদন্তের নেই গুরুত্ব

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘুটু গ্রামে সেচের পানি পেতে হয়রানির শিকার হয়ে বিষপানে দুই কৃষক আত্মহত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। অথচ তদন্তে এসব দেখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


দুই কৃষক আত্মহত্যার ঘটনায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে (বিএমডিএ) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু বর্তমানে ওই দুই কৃষকের জমির ধানের কী অবস্থা সেটিই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিএমডিএর তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

বুধবার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কৃষক অভিনাথ মার্ডি (৩৬) ও তার চাচাতো ভাই রবি মারান্ডি (২৭) বিষপান করেন। বুধবারই অভিনাথ মারা যান। আর শুক্রবার মারা যান রবি। এ ঘটনায় অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনে পানি না দিয়ে তাদের বিষপান করতে বলেছিলেন।

অন্যদিকে একই অভিযোগ নিয়ে রবি মারান্ডির ভাই সুশীল মারান্ডিও রোববার বেলা ১১টায় গিয়েছেন গোদাগাড়ী থানায়। তিনিও অপারেটর সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা করতে চান। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করা হয়নি। সুশীল থানাতেই বসে ছিলেন। তাকে থানায় বসিয়ে রেখেই রবির জমি দেখতে নিমঘুটু যান গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম।

বিকালে তিনি বলেন, রবির মৃত্যুতে স্বজনরা মামলা করতে চান। সে জন্যই জমিটা দেখতে এসেছিলাম। রবি নিজের দেড় বিঘা এবং বর্গা নিয়ে আরও আড়াই বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছেন। নিজের জমির ধানটা একটু খারাপ। তবে বর্গা নেওয়া জমিতে চমৎকার ধান হয়েছে।

ভাইয়ের মামলা করার আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, মামলা দিলে তো নিব। তারপর তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।

এদিকে দুই কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে শনিবার বিএমডিএ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) নাজিরুল ইসলাম। অন্য দুজন হলেন- নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জল আলী সরকার ও নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির। রোববার সকালে কমিটির সদস্যরা নিমঘুটু ঘুরে এসেছেন। দেখে এসেছেন দুই কৃষকের জমি।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম বলেন, আমরা তো তেমন কোনো সমস্যা দেখছি না। কৃষকদের জমির ধান ভালো আছে।

তিনি আরও, গভীর নলকূপটিতে ২০০ বিঘা বোরো ধানের সেচ চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা আছে। তবে চাষ হয়েছে ২৬০ বিঘা।

প্রকৌশলী বলেন, অপারেটর তো পলাতক। তাকে পেলে অভিযোগ সম্পর্কে কিছু বোঝা যেত। অভিনাথের স্ত্রী কিছু বলতে পারছেন না। আর রবির বাড়ির কাউকে কথা বলার জন্য পাওয়া যায়নি। এগুলো দ্রুত প্রতিবেদন আকারে দেওয়া হবে।

অভিনাথের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রীর দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে- পানির অভাবে জমির ধান নষ্ট হচ্ছিল। ঘটনার দিন অভিনাথ পানির জন্য গেলে সাখাওয়াত তাকে গালিগালাজ করে বলেছিলেন, ‘তোর জমিতে আমি পানি দিব না। তুই যা পারিস কর।’ তখন অভিনাথ বলেছিলেন, ‘পানি না দিলে আমি বিষ খাব।’ এ সময় সাখাওয়াত বলেন- ‘তুই বিষ খা গা।’

এরপরই বিষপান করেন অভিনাথ। মামলা হলেও পুলিশ সাখাওয়াতকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দুই কৃষকের মৃত্যু এখন ভিন্ন খাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করা স্থানীয় সংগঠনগুলো।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম