কোনো প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটা আবার কোনো প্রকল্পে মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। কাজ না করেও কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে গাড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের যোগসাজশে নানা কৌশলে এ লুটপাট করেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে শাহজাদপুর উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতার অনুকূলে টিআরের আটটি প্রকল্প ও কাবিখার ২৫টি প্রকল্প, সাধারণ বরাদ্দে টিআরের ১৮ এবং কাবিখার ৪৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে প্রতিটি প্রকল্পে ১০০% কাজ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে রিপোর্টও প্রদান করা হয়েছে।
কিন্তু সরেজমিনে পুরোই উল্টো চিত্র দেখা যায়। উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের পুরানটেপড়ি রউফের দোকান হতে খালেকের দোকান পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণ নির্মাণের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু গত দেড় বছরে ওই রাস্তায় এক কোদাল মাটিও ফেলা হয়নি। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে গ্রামের এক ব্যক্তি জানান, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য। শুনেছি মেরামতের জন্য এমপি কাবিটা বরাদ্দ দিয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ করা হয়নি।
একই ইউনিয়নের পুরানটেপড়ি রিপনের দোকান হতে খালেকের দোকান পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য এমপি কোটায় টিআর (কাবিটার) ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানেও কোনো কাজ করা হয়নি। ওই গ্রামের জব্বার জানান, আমরা নিজেরা চাঁদা তুলে টাকা দিয়ে যে রাস্তা নির্মাণ করেছি তেমনই রয়েছে। এখানে টিআর( কাবিটার) কোনো কাজ হয়নি। এই ইউনিয়নের দুর্গাদহ আতিকের বাড়ি হতে ছলিমের বাড়ি পর্যন্ত টিআর দুই লক্ষ সত্তর হাজার টাকা বরাদ্দ হয়, বাস্তবে আতিকের বাড়ি হতে ছলিমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। অথচ অফিস থেকে পূর্নাঙ্গ কাজের বিল উত্তলন করা হয়েছে।
স্থানীয় আব্দুল জব্বার জানান, রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৪০ দিনের কর্মসূচির টাকা দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। পুরানটেপড়ির রিপনকে দিয়ে চারদিন ভেকু মেশিন চালিয়ে উচু রাস্তা আরো নিচু করে সমান করা হয়েছে। এখানে রাস্তার উন্নয়ন বলে কিছুই হয় নাই।
এই গাারাদহ ইউনিয়নের মশিপুর আমিরের বাড়ি হতে বাচ্চুর শ্যালো মেশিন পর্যন্ত রাস্তার পূর্ণ নির্মাণের জন্য পাঁচ লক্ষ বিশ হাজার টাকা (কাবিটা) প্রথম পর্যায়ের বরাদ্দ দেওয়া হলেও এক টুকরী মাটিও ফেলা হয়নি। এছাড়াও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মশিপুর জনাব মাষ্টারের বাড়ি হতে হামিদের বাড়ি পর্যন্ত সাধারণ বরাদ্দ (কাবিখা) ১০.৫০০ মেঃটঃ চাউল বরাদ্দ হওয়ার প্রেক্ষিতে কোনো কাজই করা হয়নি।
পুরানটেপরী মোজাম্মেল ডাক্তারের বাড়ি হতে টেকুয়াপাড়া গনীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে (কাবিটা) ১০ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯২৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কাজ করা হয়নি। টেকুয়াপাড়া গ্রামের আলিম জানান, বিগত ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এ রাস্তায় কোনো মাটি ফেলা হয়নি। মশিপুর রফিকুলের বাড়ি হতে লালপুর হাফেজের বাড়ি পর্যন্ত গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা চাউল) ২৫.৯৪৪ মেঃটঃ বরাদ্দ দেওয়া হলে সেখানেও হয়নি কোনো কাজ। শুধু এমপির অনুকূলে বরাদ্দের প্রকল্পগুলো নয় উপজেলার প্রতিটি প্রকল্পের অবস্থা এমন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, টিআরের সব টাকা সংসদ সদস্যের সহায়তা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছে। প্রথমবারের মতো অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে টিআর-কাবিখার অর্থ আত্মসাতে জড়িয়ে পড়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অবিলম্বে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলো সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের কাছে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে রুম থেকে বের হয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছুই জনেন না প্রকল্পের বিষয়ে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম