প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারের মৃত্যুর খবর সোমবার উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের এলংজানী গ্রামে তার বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। উৎপলের মা বৃদ্ধ গীতা রানীসহ পরিবারের স্বজন ও প্রতিবেশীদের গগন বিদারি কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার বাতাস। কাঁদতে কাঁদতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা। অকালে সন্তান হারানোর শোক যেন কোন ভাবেই সামাল দিতে পারছেনা গীতা রানী। উৎপলকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন উৎপলের স্বজন ও স্থানীয়রা।
উৎপলের ছোট ভাই বৌ মলি রানী সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, উৎপল কুমারের মরদেহ ঢাকার সাভার থেকে রাত ৯টার দিকে গ্রামে আসার সম্ভবনা রয়েছে। তাকে রাতেই পার্শ্ববর্তী লাহিড়ী মোহনপুর শশ্মানে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মলি রানী তার ভাশুরের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শাসন করায় যদি শিক্ষককে এভাবে করুণ মৃত্যুবরণ করতে হয় তাহলে দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর শৃংখলা থাকবে না। নষ্ট হবে শিক্ষার পরিবেশ বলে উল্লেখ করেন মলি রানী।
নিহত উৎপলের সহকর্মী সুমন্ত সরকার জানান, উৎপল ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃংখলা কমিটির সভাপতি হিসেবে বখে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন সময় শাসন করায় কিছু শিক্ষার্থী উৎপলের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। এই ক্ষোভের রেশ ধরেই আশরাফুল ইসলাম জিতু তাকে বেধড়ক পিটিয়েছে বলে তার ধারণা।
উল্লেখ্য, উৎপল উল্লাপাড়া উপজেলার এলংজানী গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। তিনি ১০ বছর ধরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল ও কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে চাকরি করতেন। উৎপল প্রতিষ্ঠানের শৃংখলা কমিটির সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সময় উচ্ছৃংখল শিক্ষার্থীদের শাসন ও বিচার করতেন।
গত শনিবার ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের ফুটবল খেলা হচ্ছিল। প্রভাষক উৎপল মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে উৎপলকে বেধড়ক পেটায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে তিনি মারা যান।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম