সিরাজগঞ্জের চৌহালীর দক্ষিণাঞ্চলে বর্ষা না আসতেই যমুনা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বিশেষ করে মিটুয়ানী নৌকাঘাট নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে পণ্য পরিবহণসহ যাত্রী উঠানামা করতে হচ্ছে।
এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে ভাঙন রোধে পাউবো কার্যকরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে বর্ষা না আসতেই এ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে মিটুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক, বিনানুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে জোয়ারে কারণে কিছু পানি বৃদ্ধির পর থেকে মিটুয়ানী হইতে ভূতের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকার কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বসতভিটা বিলীন হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পাউবো সহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কাজ করা হয়নি।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোল্লা জানান, চৌহালীর দক্ষিণাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী তীর সংরক্ষণে ৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প শুনেছি অনুমোদনের অপেক্ষায়। তবে কবেনাগাদ এটি অনুমোদন ও কাজ শুরু হবে তা জানি না। বর্ষায় আগেই কাজটি শুরু করলে হয়তো দক্ষিণাঞ্চলের বহু বাড়িঘর রক্ষা পেত। গত দুই সপ্তাহে নদীপাড়ের প্রায় ৫৫টি বাড়ির ভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর ভাঙন রক্ষায় অর্থ বরাদ্দ হলে কাজ শুরু করা হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এনআই/আরএএম