বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> প্রমাণ মিলেছে যৌন হয়রানির, রিপোর্ট কখনই প্রকাশ করবে না বিসিবি

>> মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

>> নিজের পিস্তলের গুলিতে এসআইয়ের আত্মহত্যা

>> সাভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ওসিসহ আহত ৫০

>> ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ: মজুরি বোর্ড

>> প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সেই কর্মকর্তা

>> পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ শ্রমিক নেতা আটক

>> নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক

>> যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হলেন কেইশা ল্যান্স বোটমস

>> আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব: তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে নতুন হুমকি

আপনি পড়ছেন : ক্রীড়া

ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ফুটবল প্রেমিকদের উচ্ছ্বসিত ভালবাসার খন্ডচিত্র

সারাদেশে সয়লাব বিদেশী পতাকা

DhakaReport24.com || 2022-11-24 22:48:15
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ফুটবল প্রেমিকদের উচ্ছ্বসিত ভালবাসার খন্ডচিত্র

এশিয়া মহাদেশের ভেতরে বিশ্বকাপ ফুটবলে কোনো দল অংশ নিতে পারুক আর না পারুক, দেশগুলোতে সব থেকে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার  সমর্থক বেশি বিশেষ  করে বাংলাদেশে।  ফুটবল বিশ্বকাপে লক্ষ লক্ষ   টাকা খরচ করে পতাকা বানানোর জন্য  প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশে।

এই উপলক্ষ্যে কিছু কথা না বললেই নয়। সরকারের আমলে প্রতিটি উপজেলাতে সরকারি উদ্যোগে একটি করে মসজিদ নির্মাণ, মাদ্রাসা জাতীয়করণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন প্রভৃতি কাজ করে যাচ্ছে, তারপরেও কিছু মানুষের কাছে সবকিছুই  খারাপ। তাহলে সেই সব ব্যক্তি কই যারা আজকে মুসলিম দেশ সৌদি আরব, ইরান, কাতার খেলছে অথচ তাদের পক্ষে নাই। আর তারা কি জানে না, যে সব দেশের তারা সাপোর্ট করছে, ঐ দেশগুলোতে মুসলমানদের  কিভাবে নিধন করা হচ্ছে।  মুসলমানদের আযান দেয়ার কোন অনুমতি নেই। ব্রাজিলে সালেরন স্টোপস স্থাপনার সিড়িতে পায়ের নিচে আল্লাহর পবিত্র নাম লেখা নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ঝড় উঠলেও ব্রাজিল সমর্থকদের মনে কোন ক্ষোভ নাই। সেই দেশকেই সাপোর্ট করে তর্ক বিতর্ক এমনকি খুনাখুনি পর্যন্ত রূপ নেয় বিশ্বকাপ খেলা শুরু হলে। বিষয়টা হচ্ছে মায়ের থেকে মাসির উপর দরদ বেশি। 

অনেকেই বলবে হয়তো খেলাধুলার ভিতরে আবার রাজনীতি কেন? সেখানে তাদেরকে আমি পাল্টা প্রশ্ন করি,  দেশের উন্নয়নের ভেতরে আবার রাজনীতি কেনো?  বাংলাদেশের মানুষদের এতটাই দরদ যে, লক্ষ লক্ষ  টাকা খরচ করে পতাকা, বাড়ির ডিজাইন, সড়ক, কালভার্টে রং সব জায়গায় সয়লাব হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের যারা সাপোর্ট করছে, এমনকি তাদের সমর্থকদের কমিটি পর্যন্ত গঠন হয়ে গেছে বিভিন্ন পদ পদবী এমন কি অর্থের ফান্ড পর্যন্ত তৈরি হয়ে গেছে। এসব দেশের সাপোর্টার অধিকাংশই তরুণ। সেই সব তরুণদের মাঝে দেশের পতাকার প্রতি ভালোবাসা অনেকাংশেই কমে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই তরুণরা কি উপহার দিবে বাংলাদেশকে?

হয়তো লেখাটা পড়েই অনেকেই খারাপ মন্তব্য পোষণ করবে।  কিন্তু একটি কথা না বললেই নয়। এই দেশে এমনও মানুষ আছে  যাদের বৃদ্ধ মা-বাবার একটি শীতের কাপড় কিনে দিতে হাজার দোহাই দিয়ে থাকে, অথচ বিদেশি পতাকা শত শত টাকা খরচ করে তারই বাড়িতে উড়াচ্ছে। এই দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশে পতাকা কোন ঘরে থাকুক আর না থাকুক আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের পতাকা এখন প্রায় বাড়িতেই পাওয়া যাবে। বিদেশী পতাকা উঠালেও আমার  মাতৃভূমির আমার দেশের পতাকা যেন অবমূল্যায়ন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ।

এ বিষয়ে সত্তরের  অগ্নি সেনা বীর  মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দিন আহম্মেদ অনেকটা দুঃখে ভরা ক্লান্তে বলেন  ৭০ সালে বাংলাদেশের সর্ব প্রথম এই আলমডাঙ্গা থানা থেকে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে সেই পতাকায় আগুন দিয়েছে নিজের কথা না ভেবে । দেশকে একটি লাল সবুজের পতাকা উপহার দেয়ার জন‍্য যুদ্ধে  লাফিয়ে পড়েছি। কিন্তু সেই লাল সবুজের পতাকা অবমূল্যায়ন যদি না হয়, এদিকে প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। অনেকদিন আগের মানুষ দেশের জন্য অনেক কিছু করেছে। কিন্তু এখনকার মানুষ যদি এই পতাকাকে সম্মান না দেয়। তাহলে এই বাংলার ৩০ লক্ষ শহীদদের রক্ত  অবমাননা করা হবে। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে  প্রশাসনের কিছু  কতিপয় ব্যক্তি  ব্রাজিল ও  আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত অবস্থায় বিভিন্ন ফটো সেশনে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন প্রকার খেলার আয়োজন করছে।  আসলে এটা বাংলাদেশে ফুটবল প্রেমিকাদের অনুপ্রাণিত করছে কিনা জানিনা কিন্তু  ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব ঠিকই করছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যখন বিশ্বকাপ খেলতে যাই, তখন তো অনুপ্রাণিত করার কোন কর্মকর্তা থাকেনা।  বিদেশি পতাকা কেনা বাদ দিয়ে গরিব ও অসহায় মানুষদের যদি শীতের পোশাক দিয়ে সহযোগিতা করা যায় তাহলেই ভালো থাকবে সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলো। ভালো থাকবে বাঙালি, ভালো থাকবে বাংলাদেশ।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায় হে  মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি তাই। আর এই মানুষ করবেই বা কে, এই লাল সবুজের পতাকা যার অন্তরে গাঁথা ছিল স্বপ্ন দেখেছিল সোনার বাংলা গড়ার অথচ সেই মানুষটিকে ৭৫ সালে স্ব-পরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতীর স্বপ্নের সমাপ্তি হয়। বিদেশী পতাকার জন‍্য কি দেশপ্রেম এটাই হওয়া উচিৎ?

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম