"বাড়ি তো নয় পাখির বাসা- ভেন্না পাতার ছানি
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। "
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের আসমানী কবিতার উল্লেখিত পংক্তিগুলো ও আসমানী চরিত্রের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় লাখাই উপজেলার ষাটোর্ধ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাতুলী বিবির। তিনি ১ নং লাখাই ইউনিয়নের স্বজনগ্রামের বাসিন্দা। মৃত তোতা মিয়ার স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কাতুলী বিবিকে খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরের টাউনশীপ নামক স্থানে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করছেন তিনি। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ছোট্ট একটি ঝুপড়ি বানিয়ে কোনরকম মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিবেশী সমলা বেগম জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কাতুলী বিবির স্বামী সন্তান নেই। অসহায় ভাইয়ের জায়গায় একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়েছে। মানুষের বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে এনে নিজে কষ্ট করে খায়।
কাতুলী বিবির ভাই আব্দুল হাসিম (৭০) জানান, আমার এক ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং খুব কষ্ট করে নিজেরা আছি। বোনকে নিজের সামান্য জায়গার মধ্যে একটু জায়গা দিয়েছি। তিনি জানান, কাতুলী বিবিকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা সদস্য। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা আসায় স্থানীয় রোকন মিয়ার ছেলে আলমগীর মিয়া তার নিজস্ব মোবাইল নম্বর এর মাধ্যমে নিজে টাকা উত্তোলন করছে। কাতুলী বিবিকে সামান্য কয়টা টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ করেন তিনি।
তার মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে চাইলে সে বিভিন্নভাবে তাদের এড়িয়ে যায়।
কাতুলী বিবি জানান, তিনি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা নিয়মিত পান না। তার টাকা আলমগীর মিয়া নামে একজন উত্তোলন করছেন। মাঝে মধ্যে তাকে কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিজের কাছে রাখছেন।
তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করে নিজের পেট চালাচ্ছেন।
নিজের সহায় সম্বল না থাকায় ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
এ প্রতিবেদককে দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাইনষে ঘর পায়, আমি পাই না। বাজান, মরলে পরে কি ঘর পামু।
কার ধারে যামু, কেডা দিবো কানা বেডিরে ঘর।
এ ব্যাপারে ১নং লাখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রুপন জানান, সরকারি ঘরের বরাদ্দ আসলে অসহায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কাতুলী বিবিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।