মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, আড়াইহাজারে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

>> ‘সিন্ডিকেট’ বলে যেন কোনো শব্দই না থাকে: খাদ্যমন্ত্রী

>> মালয়েশিয়ায় অভিযানে ২৩ বাংলাদেশি আটক

>> চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর পা ভেঙে দিলেন যুবদল নেতা

>> পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

>> আওয়ামী লীগকে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

>> বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, শতশত স্কুলে শিক্ষার্থীদের ব্লকেড

>> বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

>> ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী

>> ছেলের খুনের দেড় মাসের মাথায় বাবাকেও প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

আপনি পড়ছেন : হবিগঞ্জ

খুনের মামলায় যেভাবে ফেঁসে যান মাধবপুরের তিন পরিবার


DhakaReport24.com || 2023-02-05 21:20:00
খুনের মামলায় যেভাবে ফেঁসে যান মাধবপুরের তিন পরিবার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কলেজ ছাত্র আতিকুল ইসলাম মিশু হত্যার রহস্যের জট যেনো খুলছেই না। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মিশু হত্যা নিয়ে। হাটে বাজারে-পাড়া মহল্লায়, চায়ের দোকানেও চলছে আলোচনা সমালোচনা। মিশু হত্যার সাথে কারা কারা জড়িত। এ নিয়ে চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষন।

 

গত বছর ৩ নভেম্বর মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী শাসছুল হকের পুত্র কলেজ ছাত্র আতিকুল ইসলাম মিশু ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে খুন হন। এতে গুরুতর আহত হন তারেক নামে আরেক যুবক। কিন্তু ওই ঘটনায় ৮দিন পর মামলা দায়ের করা হলে কৌশলে উক্ত মামলায় বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামের নিরীহ তিন ব্যাক্তিকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের ভয়ে তিনজন এখনো পলাতক। আসলেই কি এই তিনজন জড়িত নাকি তিনজনকে ফাঁসানো হয়েছে। এর গভীরে যেতে হলে জানতে হবে পিছনের ঘটনা।

 

২০১৬ সালে হরিতলা এলাকায় গড়ে উঠে বেশকিছু কোম্পানী। এরমধ্যে কপারটেক সলিউশন কোম্পানী নামক একটি প্রতিষ্ঠান জমি কিনে প্রতিষ্ঠান করে। তাদের বেশকিছু জমির প্রয়োজন হলে ওই এলাকার নুরজাহান বেগম ও কুদরত আলীর কাছ থেকে জমি ক্রয় করা হয়। আর উক্ত জমি কেনার দালালী করে এক্তিয়ারুর গ্রামের মিশু হত্যা মামলার দায়িত্বরত পল্লী চিকিৎসাক শাহআলম ও বিএনপি পেশাজীবি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দাবীদার আরিফুল ইসলাম জিয়া। নামে মাত্র কিছু টাকা ব্ল্যাক চেক দিয়ে জমি দলিল করে নিলেও বাকি টাকা দেই দিচ্ছি বলে তালবাহানা করে জিয়া ও শাহ আলম। দেই দিচ্ছি বলে বছরের পর বছর ধরে ঘুরা থাকে পাওনাধারদের। টাকা চাইতে গেলেই বিভিন্ন মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানী, হাজতবাসসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলো জিয়া-শাহআলম ও তাদের সহযোগিরা। খুন, ডাকাত, ধর্ষন, মাদক, মিথ্যে সংবাদ প্রকাশসহ নানা ধরনের মামলা দিয়ে কয়েকটি পরিবারকে নিঃস করে জিয়া শাহআলম। গতবছর এলাকাবাসী রুখে দাঁড়ায় জিয়া-শাহআলম ও তাদের সহযোগিদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন প্রতিবাদ, মানববন্ধন করে এলাকার নিরীহ মানুষ। যা স্থানীয়, জাতীয় পত্রিকাসহ ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এসবরে নেতৃত্ব দেয় হরিতলা গ্রামের মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে কুদরত আলী, মৃত নবীর হোসেনের ছেলে পানাম মিয়া ও মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে খলিল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন।

 

পরবর্তীতে দীর্ঘ ৬বছর পর টাকা উদ্ধারের জন্য হবিগঞ্জ কোর্টে একটি প্রতরাণা ও চেক জালিয়াতির মামলা করা হয়। উক্ত মামলায় জিয়া ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে আদালত। দুজন আগাম জামিন নিলেও  কোর্টে হাজিরা দিলে আরিফুল ইসলাম জিয়াকে আটক করে আদালত। ২৬দিন জেল খেটে এসে আবারও জিয়া শাহআলম বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে তাদের।

 

গত বছর ৩ নভেম্বর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী শাসছুল হকের পুত্র কলেজ ছাত্র আতিকুল ইসলাম মিশু ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে খুন হন। এতে গুরুতর আহত হন তারেক নামে আরেক যুবক। কিন্তু ওই ঘটনায় ৮দিন পর ১১জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হলে কৌশলে উক্ত মামলায় হরিতলা গ্রামের কুদরত আলী, পানাম মিয়া ও খলিল মিয়াকে আসামী করা হয়।

 

বিশ্বস্থ সুত্রে যানাজায়, মামলা প্রধান আসামী শিমুল মিয়াকে আটক করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়া হয়। উক্ত জবানবন্দীতে শিমুল মিয়া তিনজনের নাম বলেন নি। প্রধান আসামীর জবানবন্দীতে যাদের নাম এসেছে এরধ্যে অনেকেই মামলার এজহারে নেই। ঘটনাস্থলে যারা উপস্থিত ছিলো তাদের নাম না দিয়ে আক্রোশ মিটাতে নিরীহ লোকদের নাম দেয়া হয়েছে বলে জানান অনেকে। এছাড়া মুল আসামী আটকের পর কারাগারে গিয়ে সাক্ষাতও করে আসে বাদী পক্ষের লোকজন। এমনকি আরিফুল ইসলাম জিয়া ও শাহআলম নিজেও গিয়ে দেখা করেন আসামী শিমুলের সাথে।

 

এদিকে বাদীর সাথে আরিফুল ইসলাম জিয়া ও শাহআলম দেখা করে মামলা পরিচালানর সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে ঘটনার ৮দিন পর মামলা দায়ের করে। পূর্বর শত্রুতার জেরধরে কুদরত, পানাম ও খলিল মিয়াকে ফাঁসানো হয়েছে বলে জানান তাদের পরিবারের সদস্যরা।

 

ঘটনার দিন কুদরত, পানাম ও খলিল মিয়া নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলো। তাদের মোবাইলের লোকেশন চেক করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। তাছাড়া মুল আসামী শিমুলের সাথে কুদরত, পানাম ও খলিল মিয়ার তেমন কোন সম্পর্কও নেই।

 

বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামীদের আইনের আওতায় এনে চার্জশীট ও দৃষ্ঠান্তমূল শাস্তির দাবী জানান সচেতন মহল এবং নিরাপধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে মুক্তি দেয়ার দাবী জানান এলাকাবাসী।