আটাশ বছরের যুবক ওয়াহেদ মিয়া, বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার সদরের ২ নম্বর উত্তর -পশ্চিম ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত চানপাড়া গ্রামে। ওয়াহেদ মিয়া চানপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি মৃত জব্বার মিয়ার পুত্র। ওয়াহেদ একসময় দিনমজুরের কাজ করতেন।
প্রায় তিন বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় স্বীকার হন তিনি। দুর্ঘটনাস্থলে তাঁর ডান পা ভেঙে যায়। চিকিৎসা করার পর ডাক্তারের পরামর্শে পা কেটে ফেলতে হয়। পঙ্গুত্ব বরন করে নিতে হয় তাঁকে। মানবেতর জীবন পার করতে হয় ওয়াহেদ মিয়াকে।
কিন্তু পা হারিয়ে ও থেমে নেই ওয়াহেদ। সকল প্রকার কাজ অনায়াসে করতে পারেন তিনি। নিজের জমি এবং পরের জমিতে কাজ করে পরিবারের ভরন পোষণ করেন তিনি।এলাকাবাসী ও আত্নীয় স্বজনের সহযোগিতায় বাড়িতে দিয়েছেন ছোট একটি মুদির দোকান। সেখান থেকে টাকা উপার্জন করে কৃষিকাজে অর্থ ব্যয় করেন তিনি।
এক পা লাঠিতে ভর করে জমি রোপণ করতে পারেন তিনি। এভাবেই জীবনযাপন করছেন তিনি। এ ব্যাপারে ওয়াহেদ মিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছি এতে আমার কোন দুঃখ নাই। দুর্ঘটনায় আমার হয়তোবা মৃত্যুও হতে পারতো। কিন্তু আমি দুনিয়ার আলো-বাতাস দেখতে পারছি এতে আমি সৃষ্টিকর্তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
পা হারানোর পর কি করব? ভেবে পাচ্ছিলাম না। এলাকাবাসী এবং আত্নীয় স্বজনরা মুদির দোকান সাহায্য করার ফলে সেখান থেকে নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাসী হয়ে পড়ি। নতুন করে বাঁচতে শিখি। আল্লাহর রহমতে সবকাজ করতে পারি। বর্তমানে আমার কয়েকটি ধানের জমি আমি একপায়ে লাঠি ভর করে রোপণ করেছি। আমি আমার জীবন নিয়ে কখনো হতাশ না। কারণ সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্যই করেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/হাদি/আরএএম