শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : ধর্ম ও মিথ

হৃদয়ের রক্তক্ষরণে যশোরসহ সারাদেশে বিজয়া দশমী পালিত 


DhakaReport24.com || 2022-10-05 14:43:15
হৃদয়ের রক্তক্ষরণে যশোরসহ সারাদেশে বিজয়া দশমী পালিত 

মহালয়ার আগমনী গানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা বহু কাঙ্ক্ষিত  শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহ নিয়ে ফিরে আসে আমাদের এই সুন্দর ধরণীতে। কিন্তু ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী পেরিয়ে একটু একটু করে বেদনার বেহালার সুর বাজিয়ে সবচেয়ে আনন্দ ও খুশির উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয় দশমীর দিনে। যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়। শত কষ্টের মাঝেও বিদায় জানাতে হয় দশমীতে। ঘরের মেয়েকে এদিন যেন ছাড়তেই চায় না কারো মন। তবুও ফিরে যেতে হয় দেবী দুর্গা অর্থাৎ উমাকে। অসুর রাবন বধের বিজয়ানন্দে দেবী দুর্গাকে মিষ্টি মুখ করিয়ে কৈলাসে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এ বছর দশমীর তিথি শুরু হবে ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ (৫ অক্টোবর) বুধবার সকাল নয়টা আটান্ন মিনিট থেকে এগারোটা একচল্লিশ মিনিট পর্যন্ত। আর ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, (৫ই অক্টোবর) দশমী পূজা শেষ করে বিসর্জন হবে। পুরান মতে অপরাজিতা আরাধনা দুর্গাপূজার একটি অঙ্গ। কারণ দুর্গার অন্য নাম হল অপরাজিতা। তবে এই দেবীর মূর্তি অন্যরকম। অপরাজিতা চতুর্ভূজা, হাতে শঙ্খ, চক্র, বর ও অভয় মুদ্রা থাকে। ত্রিনয়না ও মাথায় চন্দ্রকলা সম্বলিত নীল বর্ণা বলে পুরাণে কথিত। দেবী দুর্গার বিসর্জনের পর পূজা মণ্ডপের ঈশান কোণে অষ্টদল পদ্ম এঁকে অপরাজিতার লতা রেখে পূজা করা হয়। দশমি কথাটি প্রাসঙ্গিক তাৎপর্য সহজবোধ্য। অর্থাৎ আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে দেবীদুর্গা বা উমা কৈলাসে পাড়ি দেন। সেই কারণেই বিজয়া দশমী নামে পরিচিত এই দিনটি।

তিন দিন ধরে মহাপূজার পর চলে আসে বিজয়া দশমী। মায়ের বিসর্জনের আগে মায়ের সামনে সাদা অপরাজিতা ফুল অর্পণ করা হয়। মহিলারা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। প্রাচীন যুগে এই দিনে ক্ষত্রিয়রা অস্ত্র পূজা করে পরের দিন যুদ্ধে রওনা দিতেন। কার সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে তার নিশ্চয়তা না থাকায় তাদের স্ত্রীরা তাই এই দিনই সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতেন। হিন্দুদের সব অনুষ্ঠানই প্রকৃতির সমন্বয়ে পালিত হয়। আর তাই গঙ্গা( জল) ও মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাকে পুনরায় গঙ্গাতেই বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জন মানে হল বিশেষরূপে সৃজন অর্থাৎ অন্তরের মধ্যে আদির ( নিরাকারের) সূচনা।

পুরান মতে মহিষাসুর বধ সংক্রান্ত কাহিনীতে বলা হয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে দিনরাত্রি যুদ্ধ করার পরে দশমীর দিনে তার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন দেবী দুর্গা। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে দেবী আবির্ভূত হন এবং শুক্লা দশমীতে মহিষাসুর বধ করেন। বিজয় দশমী সেই বিজয় কেই চিহ্নিত করে। তবে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই দিনে যে দশেরা উদযাপিত হয় তার তাৎপর্য অন্যরকম। শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত দশহর থেকে, দশানন রাবণের মৃত্যুকে সূচিত করে। তবে বাল্মিকী রামায়ণের কথিত আছে যে, আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমীর তিথিতেই রাম রাবণকে বধ করেছিলেন।
কালিদাসের রঘুবংশ তুলসীদাস রামচরিত মানস কিংবা এই সূত্রের সঙ্গে সংযোগ রেখেই বলা হয়েছে রাবণ বধের পরে আশ্বিন মাসের ৩০তম দিনে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন রাম, সীতা, লক্ষণ। আর তাই রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে যথাক্রমে দশেরা ও দীপাবলি পালন করা হয়ে থাকে।

আবার মহাভারতে বলা হয়েছে, ১২ বছর অজ্ঞাতবাসের শেষে আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমীতে পাণ্ডবরা শমী বৃক্ষ এ লুকিয়ে রাখা তাদের অস্ত্র পুনরায় উদ্ধার করেন এবং ছদ্মবেশ মুক্ত হয়ে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় ঘোষণা করেন। এই উল্লেখও বিজয় দশমীর তাৎপর্য্য বৃদ্ধি করে।বিজয় দশমীর তাৎপর্য্য যত সুন্দরই হোক না কেন দেবী দুর্গার পৃথিবী থেকে কৈলাশে ফিরে যাওয়ার এই মহেন্দ্রক্ষণে বাঙালির হৃদয়ে বেদনার সুরই বেজে উঠে। কিন্তু সুন্দর আগামী ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করে একে অপরের কল্যাণ কামনা করে।

২০২২ সালে দেবী দুর্গার  মর্তলোকে আগমন গজে, যার অর্থ শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা।আর দেবী দুর্গার গমন নৌকায়। মা দুর্গা চার সন্তানকে নিয়ে কৈলাস ফিরবেন নৌকায়, যার অর্থ শস্য বৃদ্ধি ও জল বৃদ্ধি হবে। উল্লেখ্য, যশোরে উৎসবমুখর পরিবেশে  ৭০৩টি মন্দির মণ্ডপে এবং সারাদেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপে সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যশোরে সদর উপজেলায় ১৫০ টি, শার্শায় ২৯টি, ঝিকরগাছায় ৫৭ টি, মণিরামপুরে ১০৫টি, কেশবপুরে ৯৬টি, চৌগাছায় ৪৯ টি, বাঘারপাড়ায় ৯৭ টি, অভয়নগরে ১৩০টি মন্দিরে এবার দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম