দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের দুই বছর পূর্ণ হলো মঙ্গলবার। এই সময়ে বেশ সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ, বিশেষ করে করোনা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে। এরইমধ্যে দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। এতে টিকাদানে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
করোনার বৈশ্বিক টিকাদান পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা’র তথ্য পর্যালোচনায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে টিকাদানের ক্ষেত্রে শুধু ভুটান বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে রয়েছে। ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার রয়েছে বাংলাদেশের পেছনে।
টিকাদানের এই অগ্রগতি গণটিকাদান কর্মসূচির কারণে সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রথম দিকে তেমন পরিকল্পনা না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে টিকাদানে গতি বাড়ায় সরকার। এ কারণে এই সফলতা।
সরকার শুরুর দিকে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। সে হিসাবে দেশে টিকাগ্রহণের উপযোগী জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি। ইতোমধ্যে ১২ কোটির বেশি মানুষ করোনা টিকার আওতায় এসেছে।
সরকারের হাতে এখন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা, বাড়তি তিন কোটি টিকা গরিব দেশকে উপহার দেবে।
‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা’ ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ৬ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে। বাংলাদেশের আগে একটি মাত্র দেশ ভুটান, অবশ্য দেশটির জনসংখ্যা বাংলাদেশ থেকে অনেক কম।
ভুটানের ৭৬ শতাংশ জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় এসেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ৬৯, শ্রীলঙ্কায় ৬০, পাকিস্তানে ৫৭, মালদ্বীপ ও নেপালে ৭৩, মিয়ানমারে ৪৩ ও আফগানিস্তানে ১২ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম প্রয়োগ হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে প্রয়োগের মাধ্যমে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হলেও গণটিকা শুরু হয় ১০ দিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি।
দেশে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি টিকার প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়। দুই মাস পর ৮ এপ্রিল শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম। ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজের কার্যক্রম শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সরকারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ ৩ কোটি ৪৯ লাখ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। এ সময় প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ মানুষ। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ। বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ১০ লাখ জন। শুধু ২৬ ফেব্রুয়ারিই দেশে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়।
এখন পর্যন্ত এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৯৯৬ জনকে। এর মধ্যে ১২-১৭ বছর বয়সীদের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ২৭ হাজার ৬১৭।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএইচ/আরএএম